পারকিনসনস রোগ মস্তিষ্কের একটি ক্ষয়জনিত রোগ। এতে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার কার্যক্ষমতা কমে যায়। ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরাই এতে বেশি আক্রান্ত হন। মস্তিষ্কের প্রদাহ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দূষণ, কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়া, মস্তিষ্কে আঘাত বা টিউমার, স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা ইত্যাদি কারণে এ রোগ হতে পারে।
উপসর্গ: বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষণগুলো অতি ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে।
১. হাত-পায়ের কাঁপুনি, ২. হাত-পায়ের পেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়ে যাওয়া. ৩. হাত-পায়ের সঞ্চালন কমে যাওয়া বা ধীর হয়ে যাওয়া, ৪. চলাফেরার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, ৫. কথাবার্তায় জড়তা ও অস্পষ্টতা, ৬. স্মরণশক্তি কমে আসা, অনিদ্রা, বিষন্নতা ও যৌন শক্তি হ্রাস।
সমস্যা আরও জটিল হলে একসময় ভাবলেশহীন মুখাবয়ব, ঠোঁটের কোণে লালা পড়া, হাঁটতে অপারগতা বা দেরি, হাঁটার সময় জড়তা ও ছোট পদক্ষেপ, সূক্ষ্ম কাজ যেমন জামার বোতাম লাগাতেও সমস্যা ইত্যাদি দেখা দেয়।
চিকিৎসা: রোগ সারানোর কার্যকর কোনো পদ্ধতি না পাওয়া গেলেও কিছু ওষুধ লক্ষণগুলোকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ওষুধ ও পুনর্বাসনই হচ্ছে পারকিনসনস রোগের মূল চিকিৎসা। রোগের তীব্রতা ও মূল লক্ষণ অুনযায়ী ওষুধ বাছাই করা হয়। আর পুনর্বাসন করতে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে চলাফেরার জড়তা ও ভারসাম্যহীনতা দূর করা ও দৈনিন্দিন কাজগুলো নিজে করতে সাহায্য করা হয়। ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল।
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-09/news/358977

