বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন চমক লাগানো: লেনসেট
১৭ জুন, ১৩
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 207
প্রভাবশালী চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য ল্যানসেট বলছে, ১৯৭১ সালে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি, মোট প্রজনন হার সবচেয়ে কম এবং শিশু ও পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুহার সবচেয়ে কম। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে কম ব্যয় করা হয়।
ল্যানসেট ১৫ জুনের সংখ্যায় ‘গুড হেলথ অ্যাট লো কস্ট ২৫ ইয়ার্স অন: লেসনস অব দি ফিউচার অব হেলথ সিস্টেমস স্ট্রেনদেনিং’ শিরোনামের প্রবন্ধে বাংলাদেশ সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, কিরগিজস্তান, ইথিওপিয়া, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২২ জন গবেষক এই প্রবন্ধ তৈরি করেছেন।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরিবর্তন রীতিমতো চমক লাগানো। ১৯৭৯ সালে প্রতি হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ছিল ২০২। ২০০৬ সালে তা কমে ৬৫-তে নেমে আসে। একইভাবে মাতৃমৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপ্তি। এক বছরের কম বয়সী ৭৫ শতাংশ শিশু পুরোপুরি টিকার আওতায় এসেছে।
বিগত দশকগুলোতে চারটি নীতিসংশ্লিষ্ট বিষয়কে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়েছে: পরিবার পরিকল্পনা, ১৯৮২ সালের ওষুধনীতি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সহকারীর ক্যাডার এবং গবেষণা।
কম খরচে ভালো স্বাস্থ্যসেবা দেয়, এমন পাঁচটি দেশের তথ্য ল্যানসেট-এর প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, কিরগিজস্তান, তামিলনাড়ু (ভারত) ও থাইল্যান্ড। একই বিষয় নিয়ে ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার ফাউন্ডেশন গবেষণা করেছিল। তখন চীন, কোস্টারিকা, শ্রীলংকা ও তামিলনাড়ু নিয়ে গবেষণা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই গবেষণাটি করা হয়।
গবেষকদের একজন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সেন্টার ফর ইক্যুইটি অ্যান্ড হেলথ সিস্টেমের সহযোগী বিজ্ঞানী জিয়াউল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কম খরচ করেও বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে কিছু বিষয় কাজ করেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই জনস্বাস্থ্যের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল। বড় ধরনের রাজনৈতিক (বেসামরিক থেকে সামরিক পরে আবার বেসামরিক শাসন) পরিবর্তনের পরও স্বাস্থ্য খাতের কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটেনি। মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমূল্যের কৌশল (যেমন ওআরএস) স্বাস্থ্যে উন্নতি ঘটিয়েছে। আছে সরকার ও এনজিওদের একসঙ্গে কাজ করার সুফল। সর্বোপরি শিক্ষা, অবকাঠামো, যোগাযোগ ক্ষেত্রের অগ্রগতি সরাসরি স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সূত্র ঃ প্রথম আলো