ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকেন। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের অনেকেই আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসেন। ৬০ দশমিক ৪ ভাগ রোগী জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের কক্ষে অপরিচিত লোক উপস্থিত থাকেন।হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ২০১১ সালে করা জরিপ প্রতিবেদন ‘সিটিজেন্স রিপোর্ট কার্ড’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেনারেল হাসপাতালের সমেঞ্চলনকক্ষে সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করা হয়। এ সময় আয়োজিত এক সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর সনাকের সভাপতি মুজিবর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা সিভিল সার্জন সিরাজুল হক তালুকদার। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির ডেপুটি প্রোগাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মো. মনিরুল ইসলাম।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ দশমিক ১ ভাগ রোগীকে বাইরের ল্যাবে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়। ১২ দশমিক ৭ ভাগ রোগী হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পান না। ২০০৯ সালের প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৭টি নির্দেশকের মধ্যে ২০১১ সালে ১৩টি ইতিবাচক ও চারটি নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। নেতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে জরুরি বিভাগে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা পাওয়ার হার, অন্তর্বিভাগে জরুরি মুহূর্তে ডাক্তার পাওয়ার হার, অন্তর্বিভাগে সরবরাহকৃত খাবারের মান ও ইনজেকশন, স্যালাইন পুশ করানোর ক্ষেত্রে টাকা প্রদানের হার। এসব নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন সিরাজুল হক তালুকদার বলেন, ২০১১ সালের বর্তমানে হাসপাতালের সেবার মান অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন। প্রকৃতিগত সমস্যা ছাড়া তাঁদের বাইরে যাওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া দ্রব্যমূল্যের অনুপাতে বরাদ্দ না বাড়ায় হাসপাতালের খাবারের মান কমে গেছে।
content aggregation:healthPrior21
source:prothom-alo
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-23/news/323571

