রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শেরেবাংলানগরে মাসব্যাপী এ মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলায় বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা ও শিশুদের জন্য ১০ টাকা প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে। গতকাল সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের এসব তথ্য জানান। বাণিজ্য মেলার ১৮তম এ আসরে মোট স্টল থাকবে ৫০৬টি। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ১২টি দেশের ৩১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের পসরা বসাবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, ইরান, চীন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কো। মেলায় প্যাভেলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন, মিনি প্যাভেলিয়ন, সাধারণ স্টল ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্টলে রকমারি সরঞ্জাম, কসমেটিকস, স্টেশনারি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, পাটজাত পণ্য, কার্পেট, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা, জুয়েলারি, খেলনা, সিরামিকস পণ্য, মেলামাইন বস্ত্র, আসবাবপত্র, হস্তজাত তৈজসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হবে। গত দুই বছরের মতো এবারের মেলাতেও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানাতে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ নামে বিশেষ প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের বলেন, আশা করছি, এবারের মেলায় প্রতিদিন এক লাখেরও বেশি দর্শনার্থী হবে এবং তাত্ক্ষণিক কার্যাদেশ পাওয়া যাবে। বাণিজ্য মেলার জন্য এতদিনেও স্থায়ী কোন ভেন্যু গড়ে উঠেনি। এর ফলে প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে মেলার আয়োজন করার পর আবার তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এর ফলে প্রতিবছর কোটি কোট টাকা অপচয় হচ্ছে। বাণিজ্য মেলার জন্য স্থায়ী ভেন্যুর বিষয়ে এরকম এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য ঢাকার পূর্বাচলে একটি স্থায়ী ভেন্যু করার চেষ্টা চলছে। সেখানে আমাদেরকে ১০ একর জমি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমরা চেয়েছি ২০ একর। যদি না পাই তবে ১০ একরেই কাজ শুরু করবো। এবারই প্রথমবারের মতো মেলায় মেডিক্যাল সেন্টার থাকছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা পাওয়া যাবে। এছাড়া খাবারের মান নিশ্চিত করতে ও দাম তদারকি করতে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অফিস থাকবে বলেও জানান তিনি। মেলার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেলায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো হয়েছে। থাকবে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও। ২০১১ সালের মেলায় ২৫ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া যায়। গতবার সেটি দাঁড়ায় ৪৩ কোটিতে। আর এবারের মেলায় এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা।

