সারাদেশে চিকিত্সকের প্রায় সাত হাজার পদ শূন্য রয়েছে। আর এ সংখ্যা কয়েকটি কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় তিন হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু তিন বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক সংসদকে এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট পর বিকাল সাড়ে তিনটায় অধিবেশন শুরু হয়। সাধনা হালদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত নয় বছরে দেশে নারীদের গড় আয়ু তিন বছর বেড়েছে। ২০০৫ সালে গড় আয়ু ছিলো ৬৫ দশমিক আট বছর। বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে তা ৬৮ দশমিক আট বছর হয়েছে। বর্তমান সরকার নারীদের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছে। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালে ইওসি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এদিকে ৫৩টি উপজেলা হাসপাতালে ডিএসএফ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং চলতি বছর আরও ২০টি উপজেলা হাসপাতালে এ কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হবে।
মো. নুরুল ইসলাম সুজনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে চিকিত্সকের প্রায় সাত হাজার পদ শূন্য রয়েছে। উচ্চ শিক্ষা, লিয়েন এবং প্রেষণে থাকার কারণে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ৩২তম বিসিএস-এর ৩৭২ জন ডাক্তার নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া ৩৩তম বিসিএস-এ দুই হাজার ৬০০ জন ডাক্তার নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তারের শূন্য পদ পূরণ সম্ভব হবে। অপু উকিলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রায় তিন হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এম. আব্দুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ১ দশমিক ৩৭ ভাগ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত বছর জনসংখ্যা ছিলো ১৫ কোটি ২৫ লাখ। বর্তমান হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ২০২১ সালে জনসংখ্যা হবে ১৭ কোটি ২৪ লাখ। তবে ফার্টিলিটি হার হরাসের ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও হরাস পাচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০২০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ১৬ কোটি ৭২ লাখ।
চেমন আরা বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ ৮৭টি দেশে রফতানি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ খাতে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৯০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তৃতীয় জাতীয় ওষুধ নীতি-২০১২-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বেগম নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অত্যধিক চাপ থাকায় এবং সরকারিভাবে রোগী প্রতি ওষুধ বরাদ্দ না থাকায় কখনো কখনো রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

