
বাংলাদেশের ট্রাফিক জ্যাম এবার উঠে এসেছে কানাডার পত্রিকায়। তাতে তুলে ধরা হয়েছে ঢাকার যানজট কিভাবে কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে। বলা হয়েছে, এই অবস্থা সব কিছুকে শেষ করে দিতে পারে। অনলাইন দ্য স্টার এ খবর দিয়েছে। এতে ‘ট্রাফিক ক্যাওয়াজ রেইনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা তুলে ধরা হয়। এতে নির্মাতা সেলিম রেজওয়ানের দুর্ভোগের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন। সমপ্রতি তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। এসেই তিনি ভয়াবহ এক শিক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক বুধবার বিকাল তিনটায় তার এক ক্লায়েন্টের সঙ্গে বৈঠক ছিল। বনানীতে তার অফিস। সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মতিঝিল। রেজওয়ান ও তার গাড়ির চালক সকাল ১১টায় সেখান থেকে বের হন। দুপুর নাগাদ তারা মাত্র ২ কিলোমিটার সামনে এগুতে পেরেছেন। এ অবস্থায় রেজওয়ানুর গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামেন। কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যান। এরপর রিকশা নেন। তারপর তিনি ওই লোকের সঙ্গে বৈঠক করতে সক্ষম হন। যখন তাদের বৈঠক শেষ হয়েছে তখনও তার গাড়ির চালক কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে। রেজওয়ান বলেন, এই যানজট সবকিছুকে শেষ করে দিতে পারে। বিপুল জনসংখ্যার এই ঢাকা শহরকে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির শহরগুলোর অন্যতম বলা হয়। এখানে হাজার হাজার বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা, রিকশা ও অন্যান্য বাহন যেন একটু জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করছে। সড়ক আর যানবাহনের চাপ সইতে পারছে না। যেখানে সেখানে পার্কিং করে রাখা হয়। ট্রাফিক সঙ্কেত ভঙ্গের ঘটনা অহরহ ঘটে। মানুষ রাস্তা পারাপার হয়। রিকশাচালকরা ট্রাফিক আইন মানে না। ফলে সারাক্ষণই এক রকম জটলা লেগেই থাকে। ২০১১ সালের সরকারি এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যানজটের কারণে প্রতিদিন ঢাকায় গড়ে ৭ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের এক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৯৩ ভাগ শহরবাসী মনে করেন এখানকার ট্রাফিক সমস্যা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত ক্রসিং ফার্মগেট। সেখানে বাসের, মোটর সাইকেলের তীব্র আওয়াজ। রিকশাচালকরা তাদের পথ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করেন। মোবাইল ফোনে কেউ বলে ওঠেন- বিশাল জ্যাম। এই ক্রসিংয়ের অন্য প্রান্তে একটি চায়ের দোকান। সেখান থেকে গাড়ির চালকরা লাফিয়ে নামেন চা পান করতে। পাশেই একটি সেলুন। সেখান থেকে নরসুন্দর ডাকছেন- ‘আপনার গাড়ি ১০ মিটার সামনে এগুতে এগুতে আপনি চুল কাটিয়ে যেতে পারবেন।’ এগুলো অতি সাধারণ দৃশ্য- বললেন শহর পরিকল্পনাবিদ শেখ রুবাইয়া সুলতানা। তিনি বললেন, সড়ক নেটওয়ার্কের চেয়ে যানবাহন বেশি এ শহরে। ফলে দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থার জন্য সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে। সাবওয়ে পরিকল্পনায় থাকলেও একমাত্র বাস হলো পর্যাপ্ত জনপরিবহন। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি পত্রিকাকে বলেছিলেন, ঢাকার মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ জায়গা সড়কের জন্য প্রয়োজন। সমস্যা হলো- ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর। এখানে কোন ফাঁকা জমি নেই বললেই চলে। ফার্মগেটে প্রতি এক ঘণ্টায় যানজট ঠেলে গাড়ি ২০০ মিটারেরও কম দূরত্ব অতিক্রম করে।
content aggregation:healthPrior21
source:mzamin
http://www.24livenewspaper.com/site/index.php?url=www.mzamin.com

