ল্যানসেট বলেছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জও দৃশ্যমান হচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণ, বস্তিবাসীর সংখ্যাবৃদ্ধি, অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশকে তৈরি হতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) যেসব ধারণা ও কর্মকাণ্ডের কথা বলা হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অগ্রগতি নেই।
একশ ৯০ বছরের পুরনো এই অভিজাত সাময়িকী ল্যানসেটের আজকের (২১ নভেম্বর) সংখ্যায় এসব কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বৃহস্পতিবার একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর মোড়ক উন্মোচন করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ল্যানসেট সিরিজের প্রতিবেদকেরা বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রধান নীতির মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এক অনন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের এ প্রয়াস এ দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
ল্যানসেটের এই সংখ্যায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ শুভসূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে যাঁরা একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলতেন, তাঁরা কখনো ভাবতেও পারেননি দেশটি এই ঝুড়ি থেকে বেরিয়ে এমন দ্রুতগতিতে দৌড়াতে শুরু করবে। এ সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের জেন্ডার বৈষম্য দূর করার যে উদ্যোগ, তা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। স্কুলের শিক্ষকতা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা খাতসহ নানা অর্থনৈতিক উদ্যোগে নারীরা অংশগ্রহণ করছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর একযোগে কাজ করা, কমিউনিটিভিত্তিক সেবা-ব্যবস্থা, সাহসিকতা ও সফলতার সাথে দুর্যোগ মোকাবিলা ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশ বহু দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হোসেন আবেদ বলছেন, বাংলাদেশের এই অগ্রগতির কৃতিত্ব তুলে দিয়েছেন দরিদ্র মানুষ ও নারীদের হাতে। ল্যানসেটের সম্পাদক রিচার্ড হর্টন ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক পামেলা দাস বলছেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, গণহত্যার যে ভয়ংকর স্মৃতি, তা-ই দেশটিতে রেনেসাঁর সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করার ঘটনাকে জনস্বাস্থ্যবিদেরা বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ বলছেন। এ সংখ্যার ছয়টি প্রবন্ধ লিখেছেন ৩৫ জন গবেষক, তাঁদের ১০ জন বিদেশি।
সূত্র - প্রথম আলো

