খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের ভবনে ১৪ বছর ধরে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। এতে বাবুছড়া ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
পুলিশ ফাঁড়ির জন্য অধিগ্রহণকৃত জায়গায় ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পুলিশের সদস্যরাও ওই ভবনে মানবেতরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের ৩০ জন সদস্যকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
সরেজমিনে পুলিশ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১৬ অক্টোবর বাবুছড়ায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ হওয়ার পর বাবুছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পটি বসানো হয়। পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পটিতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ১৯৯৯ সাল থেকেই বাবুছড়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনার স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম চলছে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন। ২০০৫ সালে বাঘাইছড়ি মুখ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ির ভবন নির্মাণের জন্য এক একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হলেও সেখানে এখনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
বাবুছড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন, কনস্টেবল রিকো চাকমা ও মোস্তফা জামাল বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছোট্ট একটি ভবনের দুটি কক্ষে গাদাগাদি করে ৩০ জন সদস্য থাকছি। ভবনটিও জরাজীর্ণ, ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ে। আমাদের স্থায়ী ভবন হলে ভালো হতো।’ বাবুছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়ীত্বপ্রাপ্ত পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা পম্পি চাকমা বলেন, ‘বাবুছড়ায় গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো বসার স্থানও নেই। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি কক্ষে কার্যক্রম চালাই। সেটির দরজা-জানালা নেই। আমরা নিজেরাই বসতে পারি না, রোগীরা বসবে কোথায়! বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। আমাদের নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম চালাতে পারলে রোগীদের সেবা দেওয়ার সুবিধা হতো।’ বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুগত প্রিয় চাকমা বলেন, ‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটিতে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম থাকায় বাবুছড়া ইউনিয়নের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সপ্তাহে দুই দিন মাত্র আমার ইউনিয়নের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা পায়।’ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিটু দেওয়ান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটি পুলিশ ফাঁড়ির দখলে থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে। দীঘিনালা থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গায় চলছে তা সত্য। ১৯৯৯ সালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনে ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হয়।’
সূত্র - প্রথম আলো

