বারি কমলা-২ নামে কমলার নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্র। কেন্দ্রের বাগানে নতুন জাতের এ কমলা দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
২২টি গাছ দিয়ে নতুন জাতের এ কমলার চাষ শুরু করেছে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্র। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে হলুদ রঙের কমলা ঝুলছে।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, চার বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০১২ সালে বারি কমলা-২ নামে নতুন জাতের এ কমলা অবমুক্ত করে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্র। তিনি জানান, পাকলে ফলের রং হয় টকটকে হলুদ। এ জাতের কমলা খুবই মিষ্টি। তাই জাতটি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা জানান, এ কমলাগাছ মধ্যম আকৃতির। সম্পূর্ণ পাকা অবস্থায় ফল ও ফলের শাঁস গাঢ় হলুদ রঙের হয়ে থাকে। তিন থেকে চার বছরের গাছে ১৫ থেকে ২০টি ফল ধরে। এ কমলা স্বাদে ও পুষ্টিগুণে অনন্য।
খাগড়াছড়ি খেজুরবাগান হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ওমর ফারুক বলেন, গবেষণায় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বারি কমলা-২ পার্বত্য অঞ্চলে উৎপাদন করা সম্ভব। তাই জাতটি সম্প্রসারণের কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পার্বত্য অঞ্চলের চাষিরা উপকৃত হবে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, এ জাতের কমলা চাষ করলে লাভ কেমন হবে, তা কৃষকদের জানানো হলে চাষিরা বাগান করতে আগ্রহ দেখাবেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের কমলার পুষ্টিগুণ বেশি। খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মহব্বত উল্যা বলেন, বারি কমলা-২ জাত ব্যাপকভাবে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে বিদেশ থেকে কমলা আমদানি কম করতে হবে। এতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ির আবহাওয়া ও মাটি বারি কমলা-২ জাতের চাষের উপযোগী।
সূত্র - প্রথম আলো

