মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় শিশুদের রক্তে সিসা পেয়েছে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০ থেকে ৪০ মাস বয়সী ২৮০ শিশুর রক্ত পরীক্ষা করেছে এ গবেষক দল। তাতে দেখা গেছে, ২২৭ জন শিশু অর্থাৎ ৮০ শতাংশ শিশুর শরীরে মাত্রাতিরিক্ত সিসা আছে।
কমিউনিটি হাসপাতাল ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ ২০০০ সাল থেকে সিরাজদিখানে আর্সেনিক নিয়ে গবেষণা করছে। সেই গবেষণার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। নমুনা যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষা করা হয়। সিসার উপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষণা ফলাফল জানাতে বিলম্ব হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের একটি কোম্পানির হলুদে সিসা পাওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, কী মাত্রায় সিসার উপস্থিতি নিরাপদ তা এখনো অজানা। গবেষক দল কোন মাপকাঠির ভিত্তিতে রক্তে বা হলুদে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ সিসার উপস্থিতির কথা বলছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিউনিটি হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী কামরুজ্জামান বলেন, খাদ্যে বা রক্তে সিসার উপস্থিতিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সংবাদ সম্মেলনের মূল উপস্থাপনায় হাসপাতালের পরিচালক (গবেষণা) গোলাম মোস্তফা বলেন, ২০১৩ সালে সিরাজদিখানের ১৮টি পরিবারের চাল, ডাল, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, মাটি, শিশুর ঘরের ধুলার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ১২টি পরিবারের হলুদের গুঁড়ায় মাত্রাতিরিক্ত সিসা পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্নায়ুবিদ মৈত্রী মজুমদার বলেন, ‘শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতিতে আমরা অবাক হয়েছিলাম।’ সিসার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুদের আঙুল থেকে রক্ত নিয়ে তা যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষা করা হয়। তিনি বলেন, সিসা শিশুর স্নায়বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।
শিশুদের রক্তে বা হলুদের গুঁড়ায় সিসার উৎস কী সে সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে কিছু জানানো হয়নি। এ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে কাজী কামরুজ্জামান বলেন, গবেষণা চলমান। খুব শিগগির এ বিষয়ে জানানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। তাদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সিসার বিষক্রিয়ায় মানুষের শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
সূত্র - প্রথম আলো

