ছিনতাই করতে গিয়ে তৌহিদুর রহমান নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খোকা মিয়াকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৌহিদুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এমরান হোসেনের ছোট ভাই।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা সকাল সাতটার দিকে রামগঞ্জ-ঢাকা-হাজীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত খোকার স্ত্রী আলেয়া বেগম তৌহিদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, গতকাল ভোররাত চারটার দিকে রামগঞ্জ পৌর শহর থেকে খোকা মিয়া তাঁর সহযোগী আবু মিয়াকে নিয়ে রিকশাযোগে কলচমা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। তাঁরা সরকারি কলেজের সামনে পৌঁছালে তৌহিদুর রহমানের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা খোকা মিয়াকে রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে ৪০-৪৫ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীদের ভয়ে রিকশাচালক এবং আবু মিয়া দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন খোকা মিয়াকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রমতে, পৌর শহরের কলচমা গ্রামের মান্ধারী বাড়ির খোকা মিয়া দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর কয়েক বছর ধরে জুয়ার আসরে জুয়াড়িদের সুদে টাকা দিতেন। ওই অর্থ দিয়েই তাঁর সংসার চলত। ঘটনার দিন জুয়ার বোর্ড থেকে টাকা নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, খোকা মিয়ার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে তৌহিদুর তাঁর সহযোগীদের নিয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। তৌহিদুর তাঁর সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রামগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় চুরি-ছিনতাই করে আসছেন। তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, রিকশাচালক ও খোকার সহযোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত খোকার স্ত্রী থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সূত্র - প্রথম আলো

