চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০১৩ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আমেরিকার জেমস ই রথম্যান ও র্যা ন্ডি ডব্লিউ স্কেম্যান এবং জার্মান বংশোদ্ভুত গবেষক টমাস সি সিডফ। দেহকোষে প্রোটিন এবং অন্যান্য সামগ্রীর চলাচলের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণায় অনবদ্য অবদানের জন্য তাদের এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
স্টকহোমে নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ‘বেসিকল ট্রাফিকে’ তাদের গবেষণার ফলে কোষের অভ্যন্তরে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে কোনো কিছু পরিবহণের বিষয়টা অনুধাবন করা সহজ হয়েছে। রথম্যান ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আর স্কেম্যান ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সিডফ ২০০৮ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।
চলুন জেনে নেয়া যাক চিকিৎসায় যারা নোবেল পেয়েছেন তাদের কয়েকজনের যুগান্তকারী কিছু আবিষ্কার।
১৯০২: ম্যালেরিয়া
ভারতে জন্মগ্রহণকারী বৃটিশ গবেষক রোনাল্ড রস প্রথম বের করেছিলেন ম্যালেরিয়ার কারণ অ্যানোফিলিশ মশা৷ এই আবিষ্কারের কারণেই পরবর্তীতে ম্যালেরিয়ার ওষুধ বের করা সম্ভব হয়েছিল৷ তারপরও অবশ্য প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে প্রায় তিন মিলিয়ন মারা যায়৷ ম্যালেরিয়া নিয়ে কাজের কারণে রোনাল্ড রস ১৯০২ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন৷
১৯০৫: যক্ষা
যক্ষা নিয়ে গবেষণা করে ১৯০৫ সালে নোবেল জেতেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ৷ সংক্রামক এই রোগটি এখনো বিশ্বে ভয়ংকর রূপ নিয়ে রয়েছে৷ যদিও এখন তার টিকা পাওয়া যাচ্ছে, যেটা অবশ্য শিশুদের জন্য কার্যকরী, বড়দের নয়৷
১৯১২: অঙ্গ প্রতিস্থাপন
অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলুন, কিংবা ওপেন হার্ট সার্জারি – ফ্রান্সের বিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস ক্যারেল না থাকলে সেটা কে সম্ভব করতেন কে জানে৷ শরীরের কোনো অঙ্গ শরীর থেকে বের করে বাইরে রাখার উপায় তিনিই প্রথম বের করেছিলেন৷ তাই ১৯১২ সালে তিনি যে নোবেল পাবেন তাতে আর অবাক হওয়ার কি আছে!
১৯২৪: ইসিজি
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজির সঙ্গে আজকাল সবাই পরিচিতি৷ হৃদরোগের চিকিৎসায় অপরিহার্য এই প্রযুক্তিটি হাসপাতাল পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনের লোকটি হলেন ১৯২৪ সালে নোবেল পাওয়া নেদারল্যান্ডসের ভিলেম আইন্টহোভেন৷
১৯৩০: রক্তের গ্রুপ
রক্তের যে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে সেটা প্রথম বের করেছিলেন অস্ট্রিয়ান কার্ল লান্ডস্টাইনার৷ তিনি এ, বি, সি (এখন যেটাকে আমরা বলি ও) গ্রুপের কথা জানিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে তার সহকর্মীরা এবি গ্রুপ আবিষ্কার করেন৷ ১৯৩০ সালে নোবেল পেয়েছিলেন লান্ডস্টাইনার৷
১৯৩৯, ১৯৪৫, ১৯৫২: অ্যান্টিবায়োটিক
এই তিন বছরে চিকিৎসাবিদ্যার নোবেলটি যায় অ্যান্টিবায়োটির আবিষ্কারকদের দখলে৷ এর মধ্যে ১৯৪৫ সালে পেনিসিলিনের জন্য নোবেল পান আলেকজান্ডার ফ্লেমিং৷
১৯৭৯ ও ২০০৩: সিটি স্ক্যান, এমআরআই
সিটি স্ক্যানের জন্য ১৯৭৯ সালে বৃটিশ বিজ্ঞানী গডফ্রে হুনসফিল্ড এবং এমআরআই প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে মার্কিন দুই বিজ্ঞানী পল লটারবুর ও পিটার ম্যানসফিল্ড ২০০৩ সালে নোবেল পেয়েছেন৷
২০০৮: গর্ভাশয়ের ক্যানসার
জার্মান বিজ্ঞানী হারাল্ড সুয়র হাউজেন বলেছেন হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-এর কারণে সার্ভিক্যাল ক্যানসার হতে পারে৷ এর উপর ভিত্তি করে টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে৷ ২০০৮ সালে হাইজেন নোবেল পান৷সূত্র: ওয়েবসাইট।
সূত্র - natunbarta.com

