পড়ছি মেডিকেল কলেজে। রাতদিন তাই ব্যস্ত থাকতে হয় ক্লাস আর ব্যবহারিক ক্লাসে। এরই মধ্যে সুযোগ এল অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল হেলথ কনফারেন্স অংশ নেওয়ার। ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার হোবার্টে আয়োজিত এই বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ অংশ নেয়। একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানুষের স্বাস্থ্যসমস্যাগুলো সমাধানে কীভাবে এগিয়ে আসতে পারেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজিত হয়েছিল এই সম্মেলনে। চারটি পর্বে সম্মেলনের কার্যক্রম ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম দিনের আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘স্বপ্ন’।
সারা পৃথিবীর, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিমুহূর্তে বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসমস্যা কেমন করে মোকাবিলা করা যায়, তার রূপরেখা সাজানো নিয়ে ছিল এই আয়োজন। দ্বিতীয় দিনের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল এই স্বপ্নগুলোকে কেমন করে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে ‘প্ল্যানিং’ অংশ। তৃতীয় দিনের কর্মশালায় এই পরিকল্পনাগুলোকে কীভাবে ফলপ্রসূ করা যায়, তা নিয়ে প্রস্তাবনা আর শেষ দিন ছিল সবাই মিলে একত্রে সব পরিকল্পনাকে মিলিয়ে কীভাবে স্বাস্থ্যসমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা।
প্রতিদিনের বিভিন্ন কর্মশালার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত অধ্যাপকদের ক্লাসগুলো স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জ্ঞান বৃদ্ধিতে আমাকে দারুণভাবে সাহায্য করেছে।
মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি, সিডনি ইউনিভার্সিটি, অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস, বোস্টন মেডিকেল স্কুল অব আমেরিকার শিক্ষার্থীরাসহ ইউরোপের পর্তুগাল, সুইডেন, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস; এশিয়ার নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ অংশ নেয় এই সম্মেলনে। নানা দেশের নানা ভাষার মানুষজনের সঙ্গে মিশে তাঁদের শিক্ষা আর স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারাটাও ছিল এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের একটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা।
শুধু সম্মেলনের কাজই নয়, বরং হোবার্টে কাটানো ছয় দিনই অসাধারণ কেটেছে। ছবির মতো সুন্দর এক শহর হোবার্ট, যে শহরে চোখ মেলে তাকালেই যে কারও মন ভালো হয়ে যেতে বাধ্য।
চার দিনের এই কর্মশালাভিত্তিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ দেশ, মেডিকেল-ব্যবস্থা, মেডিকেলের ছাত্রছাত্রী ও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রজেক্ট উপস্থাপন করতে হয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল রচনা প্রতিযোগিতাও। আমার লেখা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ শীর্ষক রচনাটি সেরা তিনটি লেখার মধ্যে স্থান করে নেয়, তখন মনটা গর্বে ভরে ওঠে।
সূত্র - প্রথম আলো

