তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক এগিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা তথ্য দিতে চান না। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক নিজেই তিনটি নথি আটকে রেখেছেন।
প্রথম আলোর দুজন সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনের নির্দিষ্ট ছকে পৃথকভাবে তথ্য চেয়ে মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম মুখলেছুর রহমান বরাবর আবেদন করেছিলেন। ওই কর্মকর্তা প্রথম দিকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বলেছেন, ‘আমার কিছু করার নেই। ফাইল মন্ত্রীর কাছে। আপনারা মন্ত্রীর কাছে যান।’
আগস্টের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এই দুই সাংবাদিক দেখা করে নথির কথা জানতে চান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি আজই ফাইল নিচে পাঠিয়ে দেব।’ কিন্তু এক মাস পরও মন্ত্রী সেই নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাননি।
চলমান স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এইচপিএনএসডিপি) অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গত দুই বছরে প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে। একাধিক লাইন ডিরেক্টর ও উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপকের সুনির্দিষ্ট অনিয়ম তুলে ধরা হয় এতে। মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ও বাইরে অনেকেই মনে করেন, প্রথম আলোতে যা ছাপা হয়েছে, অনিয়ম তার চেয়ে অনেক গুণে বেশি।
৩২ জন লাইন ডিরেক্টর, ৩২ জন কর্মসূচি ব্যবস্থাপক এবং শ খানেক উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক ২০১১-১২ অর্থবছরে বেতনের বাইরে কী পরিমাণ সম্মানী নিয়েছিলেন, তা জানতে চেয়ে গত ২৬ মে আবেদন করেছিলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক।
শোনা যায়, এ সরকারের আমলে মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশ সফর করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তথ্য চেয়ে ১১ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়। একই আবেদনপত্রে অন্য একজন কর্মকর্তার বিদেশ সফর সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। এই কর্মকর্তা বিশেষ সফরে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হন বলে প্রচার আছে।
সরকারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এসেছে প্রথম আলোর কাছে। সঠিক তথ্য পাঠককে জানাতে মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য অধিকার আইনে ছয় মাস আগে আবেদন করা হয়। সেই নথিও আটকে রেখেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তথ্য কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের (আবেদনের পর ২১ কর্মদিবস) মধ্যে সব তথ্য জোগাড় করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকিরও বলেছেন, অনেক আগেই তিনি নথিতে সই করেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী কবে এই নথি ছাড়বেন তা কেউ বলতে পারছেন না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দপ্তরে গিয়ে দেখা করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, প্রথম আলো কী কী তথ্য জানতে চায়। তিনি বলেন, তাঁর কাছে কোনো নথি জমা থাকে না। তবে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
সূত্র -প্রথম আলো

