সময়ের সাথে সাথে ভারতে সারোগেট বা ভাড়াটে মায়ের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। অনেক দেশের নিঃসন্তান দম্পতিরা ভারতে আসছেন মাতৃগর্ভ ভাড়া করে তাদের সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য। শুধু তাই নয়, বর্তমানে অনেক তারকারাও এমন মায়েদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ফলে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে সারোগেট প্রবণতা।
সারোগেসির পরিচয়:
মূলত অন্য কোনো নারীর ভ্রূণ নিজের গর্ভে ধারণ করে জন্ম দেয়াকে সারোগেসি বা গর্ভভাড়া বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে ভাড়াটে মায়ের কোনোরকম অধিকার থাকে না সন্তানের ওপর। বিশেষত সন্তান পৃথিবীতে আসার পর তার দায়-দায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ সবকিছুই বর্তায় আগ্রহী দম্পতির উপর।
কেন এই গর্ভভাড়ার পেশা:
ভারতে ২০০২ সালে চালু হওয়া এই গর্ভ ভাড়া দেয়ার প্রবণতা। এখন অনেকেরই এটি পেশায় পরিণত হয়েছে। যার প্রধান কারণ দারিদ্রতা। যারা মাতৃগর্ভ ক্রয় করছেন তারা সেই সারোগেট মাকে সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে গুজরাটে নারীরা অভাবের তাড়নায় এ কাজে আসছেন।
১৮ বছর বয়সী সারোগেট গর্ভবতী বাসন্তি বলেন, “ভারতে পরিবার ও সন্তানদের খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। যে কেউ তার সন্তানদের জন্য যেকোনো কিছু করতে পারেন। নিজের ছেলেমেয়েদের ভালো রাখার জন্য আমিও এ পথকে বেছে নিয়েছি।"
বাসন্তি নিজের গর্ভধারণের জন্য পাচ্ছেন ৮ হাজার মার্কিন ডলার। তার কাছে এই টাকার পরিমাণ অনেক। যা দিয়ে তিনি নতুন বাড়ি তৈরি বা সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন। এছাড়া স্বামীর চাইতে তার এই আয়ের পরিমাণও অনেক।
সারোগেটের প্রক্রিয়া:
সারোগেট মায়ের গর্ভে ভ্রূণ প্রবেশের পর দীর্ঘ নয়মাস বাড়ি ছেড়ে থাকতে হয় সেই মাকে। যেমন বাসন্তী থাকছেন গুজরাটের আনন্দ শহরের আকাঙ্খা আইভিএফ সেন্টারে। সেখানে বাসন্তির মতো প্রায় ১শ' জন সারোগেট মা রয়েছেন। যারা প্রত্যেকে অর্থের কাছে নিজেদের গর্ভ বিকিয়েছেন। সন্তান জন্মের পর পর এই সাময়িক আবাসস্থল ত্যাগ করবেন তারা।
মূলত যথাযথ দেখভালের জন্যই সারোগেট মায়েদের আলাদা জায়গায় রাখা হয়। সেখানে নিয়মিত একজন গাইনোকোলজিস্টের অধীনে থাকেন তারা। ভিটামিন থেকে শুরু করে নিয়মিত চেকআপ সবকিছুই প্রদান করা হয় এদের। আর এসবের ব্যয় বহন করেন সন্তানের আকাঙ্ক্ষায় সারোগেট ভাড়া নেয়া সেই দম্পতি।
যে কারণে দম্পতিদের কাছে ভারত প্রিয়:
বিশ্বের অন্যান্য দেশে সারোগেসিতে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খসে যায় নিঃসন্তান দম্পতিদের। কিন্তু ভারতে এ খরচ ২০ থেকে ২৫ লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেকারণেই ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বিশ্বের সন্তান কাঙ্ক্ষিত অধিকাংশ দম্পতিরা। এমনকি গুজরাটে এ পেশা এমন আকার ধারণ করেছে যে এ শহরকে এখন ‘সারোগেসি ক্যাপিটাল’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
নেতিবাচক প্রভাব:
একজন সারোগেট মা অর্থের জন্য যখন বার বার সন্তান জন্ম দিচ্ছেন তখন সেটা তার শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অনেক সময় সচেতনতার অভাবে মায়ের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। সেইসাথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
ভারতে এ পেশায় যেমন বিবাহিত নারীরা আসছেন ঠিক তেমনি অবিবাহিত নারীরাও আসছেন। এন্য সারগেট বা গর্ভভাড়া মায়েদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। শারীরিক কষ্ট হলেও আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্যই এ পথ বেছে নিয়েছেন তারা।
সূত্র - poriborton.com

