রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তব্যরত সাতজন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজনই অনুপস্থিত। ওয়ার্ডবয় ও সেবিকারাও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। ভেতরে কুকুর, বিড়াল ও ছাগল বিচরণ করছে। ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
ওই দিন বেলা একটায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ঢুকে দেখা যায়, দুটি কুকুর নিচতলার এক কক্ষ থেকে বেরিয়ে আরেক কক্ষে ঢুকছে। জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও চিকিৎসক নেই। এ বিভাগের সামনেও কুকুর ঘুরছে। সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ছাগল ও বিড়াল বিচরণ করছে। মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যায় জায়গা না পেয়ে ১৮-২০ জন রোগীর ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে। সেখানে কোনো চিকিৎসক ও সেবিকাকে পাওয়া যায়নি।
মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের উম্মে কুলসুম বলেন, ‘হাসপাতালোত চিকিৎসা নাই। ডাক্তার সকালে আর রাইতোত আসি ঘুরি যায়। নাসের (সেবিকারা) সাথে কথা কবার চাইলে খালি রাগ দেখায়। ক্যাঁয়ো কথা শোনে না। সউগ ওষুধ কিনবার নাগে।’
বেলা দুইটার দিকে তিনজন সেবিকাকে তাঁদের কক্ষে বসে গল্প করতে দেখা যায়। চিকিৎসক কোথায় জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, পাশের কক্ষে আছেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একজন নারী চেয়ারে বসে টেলিভিশন দেখছেন। তিনি জানালেন, তাঁর নাম রোকসানা শারমিন। জরুরি বিভাগের রোগী দেখার দায়িত্ব তাঁর। রোগীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালের প্রধানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জরুরি বিভাগ ও আন্তবিভাগে কুকুর-বিড়ালের উপদ্রব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘বিসিএস পাস করেছি কি কুকুর-বিড়াল খেদাখেদির জন্য।’
জানা গেছে, এখানে চিকিৎসকের নয়টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন সাতজন। ডেন্টাল সার্জন ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন মাহমুদ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন না। জনবল সংকটের কারণে সপ্তাহে তিন দিন হাসপাতালে এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত অবস্থান করে রোকসানা শারমিন ও সালাহ উদ্দীন মাহমুদ ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। তাঁরা হলেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) শাহনাজ নাসরুল্লাহ ইলোরা, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সাবিহা নাজনীন, চিকিৎসা কর্মকর্তা জ্যোতি ভৌমিক, হেমন্ত রায় ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ইদ্রিস আলী ব্যাপারী। জ্যোতি ভৌমিক ও ইদ্রিস আলী ব্যাপারী জানান, ওই দিন তাঁরা ছুটিতে ছিলেন। শাহনাজ নাসরুল্লাহ ইলোরা বলেন, ‘ওই দিন অসুস্থ থাকায় আমি হাসপাতালে যেতে পারিনি।’ সাবিনা নাজনীন ও হেমন্ত রায়ের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সূত্র - প্রথম আলো

