ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্যোগ বা গ্রহাণুর প্রচণ্ড আঘাতের মতো বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে আরও প্রায় ১৭৫ কোটি বছর পর্যন্ত। যুক্তরাজ্যে নতুন এক গবেষণার ভিত্তিতে একদল বিজ্ঞানী এই দাবি করেছেন। অ্যাস্ট্রোবায়োলজিসাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নাটকীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সম্ভাব্য মহাবিপর্যয় ছাড়াই মহাজাগতিক বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে আমাদের এই গ্রহ ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। আজ থেকে ১৭৫ থেকে ৩২৫ কোটি বছর পর এই পৃথিবী চলে যাবে সৌরজগতের বসবাসযোগ্য অঞ্চলের বাইরে ‘উত্তপ্ত অঞ্চলে’। সেখানে অতি উচ্চহারে বাষ্পীভবনের ফলে পৃথিবীর মহাসাগরগুলো শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে পড়বে। তবে গবেষকেরা এখন মূলত অন্য গ্রহে জীবনধারণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের অবসান সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার বিষয়টি তাঁদের কাছে তুলনামূলক গৌণ। পৃথিবীতে জটিল প্রাণের ক্রমবিকাশের ধরন অনুযায়ী, এই গ্রহ বসবাসের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়তে দীর্ঘ সময় লাগবে। পৃথিবীতে সরল প্রাণীকোষের আবির্ভাব ঘটেছিল প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে। সংশ্লিষ্ট শীর্ষ গবেষক যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু রাশবি বলেন, এই গ্রহে ৪০ কোটি বছর আগে কীটপতঙ্গ, ৩০ কোটি বছর আগে ডাইনোসর এবং ১৩ কোটি বছর আগে সপুষ্পক উদ্ভিদের অস্তিত্ব ছিল। এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রমাণ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। তবে এখানে আধুনিক মানুষের বসবাসের ইতিহাস মাত্র দুই লাখ বছরের। এতে স্পষ্ট যে বুদ্ধিমান প্রাণের বিকাশের জন্য অনেক লম্বা সময় প্রয়োজন।

