পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ীরা গরুকে নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ ডেক্সামেথাসোন খাওয়াচ্ছেন। এ ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে গরু দ্রুত মোটাতাজা হয়। চিকিত্সকেরা বলছেন, এসব গরুর মাংস মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
শিবগঞ্জের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই তাঁরা বেছে বেছে দুর্বল গরু কেনেন। কিছুদিন লালন-পালন করার পর গরুকে নিষিদ্ধ ভারতীয় ডেক্সামেথাসোন বড়ি খাওয়ানো হয়। এতে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজা হয়। এর ফলে ঈদুল আজহায় হাটে ভালো দাম পাওয়া যায়। উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন (৪৫) বলেন, ‘এ ব্যবসায় দেড় থেকে দুই মাস পরিশ্রম করলে বেশ ভালো টাকা রোজগার করা যায়। আর আমি চার বছর হলো এভাবে গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করি। কেউ তো কোনো দিন বলেনি এটা খারাপ বিষয়।’
এ ব্যাপারে পল্লি পশু চিকিত্সক শাজাহান আলী বলেন, বলবর্ধক নিষিদ্ধ বড়ি খাওয়ানোর ফলে পশুর যকৃত্ ও কিডনিতে পানি জমে। ওই পানি শরীর থেকে বের হতে না পেরে মাংসে সঞ্চারিত হয়। ফলে গরু ফুলে যায়।
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক আবু ছালেহ দ্বীন মোহম্মদ বলেন, এ ওষুধ গরু মোটাতাজা করার জন্য নয়। তার পরও এ ধরনের ওষুধ গরুকে অতিরিক্ত খাওয়ালে তা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এসব গরুর মাংসও মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালাম সামছুদ্দিন বলেন, ‘ডেক্সামেথাসোন জাতীয় ওষুধ গরুকে বেশি মাত্রায় খাওয়ালে অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে। এ ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। নিষিদ্ধ এসব ওষুধ যারা বিক্রি করে, আর যারা গরুকে খাওয়ায়, কেউ আমাদের কাছে স্বীকার করে না।
সুত্র - প্রথম আলো

