পাবনার বেড়া উপজেলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ অনেক ওষুধ। উপজেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অনেক ওষুধের দোকান।
গত ২৮ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আটটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ পান। এর মধ্যে ছয়টির লাইসেন্স ছিল না। এরপর গত ২২ আগস্ট ভ্রাম্যমাণ আদালত কাশীনাথপুর বাজারের মোল্লা ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ও নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ওষুধের অনুমোদনহীন (লাইসেন্সবিহীন) অনেক দোকান গড়ে উঠেছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির নিয়ম না থাকলেও এসব দোকান থেকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাওয়া যায় সব ধরনের ওষুধ। সহজ-সরল রোগীদের অনেক সময় গছিয়ে দেওয়া হয় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেশির ভাগ ওষুধের দোকানেই বিভিন্ন রকমের অবৈধ ওষুধ বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট বা সিরাপ, ব্যথানাশক ট্যাবলেট, বলবর্ধক ট্যাবলেট বা সিরাপ প্রভৃতি। এ ছাড়া ডিআর (ড্রাগ রেজিস্ট্রেশন) নম্বরবিহীন কৌটাজাত বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সম্পূরক (ফুড সাপ্লিমেন্ট) দেদার বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নাকালিয়া বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে ওষুধের এক সরবরাহকারীর সঙ্গে কথা হলে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, তিনি বেড়া বাজার, নাকালিয়া, রাকশা, পেঁচাকোলা, হাটুরিয়া, কাশীনাথপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধের দোকানে যৌন উত্তেজক, ব্যথানাশক ও শক্তিবর্ধক ওষুধ সরবরাহ করেন। এসব ওষুধের বেশির ভাগই চোরাইপথে ভারত থেকে আসা। তিনি জানান, তাঁর মতো ১০ থেকে ১৫ জন সেনেগ্রা, ইডিগ্রা, ভায়াগ্রা (নকল), নিমোসুলাইডসহ বিভিন্ন ওষুধ উপজেলার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন।
বেড়া বাজারের এক ওষুধ ব্যবসায়ী ভারতীয় একটি যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট দেখিয়ে বলেন, এর প্রতিটি পাঁচ টাকায় কিনে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্তিক কুমার সাহা বলেন, ‘ব্যথানাশক ও যৌন উত্তেজক ওষুধ দেদার বিক্রির বিষয়টি উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন যৌন উত্তেজক ওষুধ ব্যবহার করলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেওয়ার পাশাপাশি হূদেরাগের ঝুঁকি বাড়ে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়। আর ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে মারাত্মক আলসার হতে পারে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রির বিষয়টি ওষুধ প্রশাসন বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত বলে আমাদের কিছু করার নেই।’
ওষুধ ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যভুক্ত দোকানের সংখ্যা ২৭৫টি। সমিতির একটি সূত্র জানায়, এসব দোকানের অন্তত ১০০টিরই অনুমোদন নেই। সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, অনুমোদনহীন দোকানের সংখ্যা খুব বেশি নয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পাবনার ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ সুপার) রাজিবুল হাবিব বলেন, ‘বেড়ায় লাইসেন্সবিহীন অনেক দোকান রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এসব দোকানসহ মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ইরতিজা আহসান বলেন, ‘অবৈধ ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
সুত্র - প্রথম আলো

