চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সন্ধান পাওয়া নতুন নাবি জাতের আম ‘গৌড়মতি’র নতুন ‘জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। গৌড়মতি গাছের পাশে গত শনিবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গৌড়মতির চারাকলমের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অধিদপ্তরের খাদ্যশস্য শাখার পরিচালক অনিল চন্দ্র সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা (আম গবেষণা) কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম, সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এস এম কামরুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ সাইফুর রহমান বক্তৃতা করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক একরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২০টি জেলার হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ, আম গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় আমচাষিরা অংশ নেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুকুল চন্দ্র রায় ‘গৌড়মতি’ জাতের আম সম্পর্কে বলেন, নাবি জাতের এমন সুস্বাদু আম বাংলাদেশে এখনো কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটি নাবি জাতগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণাবলিসম্পন্ন। আশা করা যায়, এ জাতটি আমের জগৎকে সমৃদ্ধ করবে।
কর্মশালায় উপস্থিত হওয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যানতত্ত্ববিদেরা এর চারাকলম লাগিয়ে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করবেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে এ জাতটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আম গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গবেষণা কেন্দ্রে এ জাতের চারাকলম তৈরি করে লাগানো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে জাতটি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। সন্ধান পাওয়া এই গাছ কৃষি কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের একত্র করেছে।’
গৌড়মতি জাতের গাছটির ফল ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গাছটির আমের স্বাদ যে এত সুস্বাদু, তা কেউ জানত না। গত বছর পরিচর্যা করে টিকিয়ে রেখে এই জাতের আমের স্বাদ পেয়েছি। এই জাতের আমের স্বাদ পাওয়ার পর চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী ১২ হাজার টাকা মণ দরে কিনে নেন। এ বছর ১৪ হাজার টাকা মণ বিক্রি করেছি। আমার পরিচর্যার মধ্য দিয়ে আজ সারা দেশে পরিচিতি পেল বলে আমার খুব ভালো লাগছে।’
অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় আমচাষিদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। আমটির নামকরণও তাঁদের পছন্দ হয়েছে। আমটির সঙ্গে ঐতিহাসিক গৌড় অঞ্চল সংযুক্ত হওয়ায় তাঁরা খুশি।
সূত্র - প্রথম আলো

