হৃদপিণ্ড সচল তো জীবন সচল। থেমে গেল তো জীবনের ইতি। হৃদপিণ্ডের স্বভাব 'ধুক ধুক' করে চলা। কিন্তু এই ধুক ধুক করা ছাড়াই এখন হৃদপিণ্ড চলবে। কৃত্রিম হৃদপিণ্ড নিয়ে বাঁচবার সম্ভাবনার দিগন্ত দেখিয়েছেন দুইজন ডাক্তার। সেই হৃদপিণ্ডের ধুকধুকানি নেই। এই দুই বিজ্ঞানীর নাম বিলি কোহেন ও বাড ফ্রেইজার। বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনের গল্প থেকে স্বপ্ন এই দুই ডাক্তারের। মানুষের স্বল্প জীবন মেয়াদ ও কৃত্রিম হৃদয়ের নানা সমস্যা নিয়ে তারা অনেকদিন ধরেই ভাবছিলেন। স্বপ্ন দেখছিলেন, কিছু একটা করবার। এই তাগাদা থেকে দুইটি সেট্রিফিউগাল পাম্পসম্পর্ণ একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তারা। যন্ত্রটির নতুনত্ব হলো এটি অন্যান্য কৃত্রিম হৃদয়ের মতো বিট বা 'ধুকধুক' করে না।
বাছুরের হৃদয় সরিয়ে করে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে এই যন্ত্র প্রতিস্থাপন করে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছেন তারা।
এরপর তারা পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীরে এটি প্রতিস্থাপনের চিন্তাভাবনা শুরু করেন।
এই দুই ডাক্তারের প্রথম রোগী হতে আগ্রহ দেখান ক্রেইগ লুইস(৫৫)।
আসলে লুইসের হাতে অন্যকোন উপায়ও ছিল না।
লুইসের রোগটা ছিল বেশ জটিল। 'অ্যামিলোডোইসিস' নামে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপ্রহর গুণছিলেন তিনি। তার হার্টের অবস্থা ছিল চুড়ান্ত পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্থ, আর মাত্র ১২ ঘণ্টা বাঁচবেন বলে জানিয়েছিলে তার চিকিৎসকরা।
২০১১ সালের মার্চে এই দুই ক্ষেপাটে ডাক্তার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই লুইসের হার্টটি তাদের আবিষ্কৃত যন্ত্রের দ্বারা প্রতিস্থাপন করে বসেন।
হার্টবিট বা হৃদয়ের ধুকধুক ছাড়াও মানুষ বেঁচে থাকতে পারে বলে কোহেন-ফ্রেইজার দাবি করছিলেন।
যদিও লুইস তার জটিল রোগ নিয়ে এই যন্ত্রের মাধ্যমে এপ্রিল পর্যন্ত বেঁচেছিলেন।
এই ঘটনার পর তেমন কিছুই বদলায়নি। তবে প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্টরা উপলব্ধি করতে শুরু করেন যে হৃদয় ধুকধুক মানে যেমন বেঁচে থাকার লক্ষণ, ঠিক তেমনই আরেকটা সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের হাতে রয়েছে।
সম্ভাবনাটা হলো, ভবিষ্যতে হয়তো এমন কৃত্রিম হৃদয় আবিষ্কৃত হতে যাচ্ছে যা বিট না করলেও মানুষকে বাঁচিয়ে রাখবে।
সূত্র - poriborton.com

