রাজধানীতে ইফতারির প্রায় সব ফল ও সবজির পাশাপাশি সেমাই ও নুডলসে ব্যবহার নিষিদ্ধ ফরমালিন রয়েছে। বিভিন্ন বাজার থেকে ফল, সবজি, সেমাই ও নুডলস কিনে ফরমালিন পরীক্ষা করে নাগরিক সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল রোববার কলাবাগানে পবা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইফতারিতে বহুল ব্যবহূত ফল ও সবজির পাশাপাশি সেমাই ও নুডলসে ফরমালিনের ব্যবহার-পরিস্থিতি জানার জন্য গত ১৩ জুন থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত আম, কলা, মাল্টা, আপেল, আঙুর, খেজুর, টমেটো, বেগুন, শসা, সেমাই ও নুডলসে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। সম্মেলনে পরীক্ষার দুটি পদ্ধতি দেখানো হয়। এর একটি হচ্ছে ফরমালিন নির্ণয়ের যন্ত্র জেড-৩০০ ফরমালডিহাইড মিটার, অন্যটি হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে পরীক্ষাগার পদ্ধতিতে নির্ণয়।
রাজধানীর ২৯টি এলাকা থেকে আমের ৬১টি, কলার ২৩টি, মাল্টার ২৯টি, আপেলের ২৭টি, আঙুরের ১৯টি, খেজুরের ৩১টি, টমেটোর ১২টি, বেগুন ও শসার ৫টি করে, সেমাইয়ের ২৩টি ও নুডলসের ১৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
পবার পরীক্ষায় দেখা যায়, শতকরা ৮০ ভাগ আমে, ৯১ ভাগ কলায়, ১০০ ভাগ মাল্টায়, ৯৫ ভাগ আঙুরে, ৫৯ ভাগ আপেলে ও ৭৭ ভাগ খেজুরে ফরমালিন ব্যবহূত হয়। ইফতারিতে ব্যবহূত সবজির মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ টমেটোতে, ৬০ ভাগ বেগুনে ও ২০ ভাগ শসায় ফরমালিন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শতভাগ সেমাইয়ে ও ৯০ ভাগ নুডলসে ফরমালিন ব্যবহূত হচ্ছে।
পবা বলছে, মাছ, শুঁটকি ও অন্যান্য শাকসবজিতে ফরমালিন ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। মুড়ি, চিড়াসহ বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কজাত খাবার যেমন ফলের রস, স্ন্যাকস খাবার, জ্যাম-জেলি, আচার-চাটনিতে ব্যবহার করা হয় মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। এ ছাড়া মোটরযান, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও কলকারখানার পোড়া তেল ও মবিল দিয়ে ইফতারিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার ভাজা হয়।
পবা বলছে, বিভিন্ন সংস্থার পরীক্ষাগারগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহূত হয় না। বিএসটিআই, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর ফরমালিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করে। মৎস্য অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফরমালিনের পরিমাণ নির্ণয় করে থাকে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ও খাদ্য অধিদপ্তরের ফরমালিন পরীক্ষার সুবিধা নেই।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন পবার সম্পাদক আবদুস সোবহান।
সূত্র - প্রথম আলো

