ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল বৃহস্পতিবার এনামুল হক (ছয় মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তার (২৫) গতকাল বেলা ১১টার দিকে একমাত্র সন্তান এনামুলকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে আসেন। কাউন্টার থেকে তিন টাকার টিকিট কিনে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মো. আমজাদ হোসেন খানের কক্ষে যান। তিনি শিশুটিকে নেবুলাইজার (শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার জন্য গ্যাস দেওয়ার যন্ত্র) দিয়ে এখানে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। মো. আমজাদ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটি ভাইরাল নিউমোনিয়া ও ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত ছিল। তাকে নেবুলাইজার দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিই। দুপুর দেড়টার দিকে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দেখি একজন নারী কাঁদতে কাঁদতে একটি শিশুকে নিয়ে দৌড়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাচ্ছেন। তখন মসজিদে না গিয়ে জরুরি বিভাগে গিয়ে জানতে পারি, এটি সেই শিশু, যেটিকে বহির্বিভাগে বসে দেখেছিলাম।’ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বাইরের একটি ওষুধের দোকানে নেবুলাইজার করাতে গিয়ে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটেছে। পরে আমি শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমার কোনো গাফিলতি ছিল না।’ রহিমা আক্তার আর্তনাদ করে বলছিলেন, ‘সামান্য শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। এখন সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’ তিনি জানান, সন্তান মারা যাওয়ার আগমুহূর্তে তাঁর হাত থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ যাবতীয় কাগজ কে বা কারা নিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

