হারানো দিন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমবেশি সবারই আছে। সুখস্মৃতি রোমন্থনের আনন্দ নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। কিন্তু এ ধরনের অতীতমুখিতাকে (নস্টালজিয়া) সাধারণত নেতিবাচক, পশ্চাৎপ্রবণ ও বাস্তবতার পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে সমালোচনাই করা হয় বেশি। কিন্তু চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান গবেষকেরা এবার বলছেন উল্টো কথা: নস্টালজিয়ার রয়েছে ইতিবাচক নানা গুরুত্ব।নস্টালজিয়া’ শব্দটির ব্যবহার শুরু সপ্তদশ শতকে। তখন থেকেই চিকিৎসকেরা এটিকে একটি রোগ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। ঘরে ফেরার জন্য মানসিক ও শারীরিক আকুতি ও সংশ্লিষ্ট বিলাপও নস্টালজিয়ার অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান গবেষক কনস্ট্যানটাইন সেডিকিডস বিষয়টির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আমাদের জীবনযাত্রা অবশ্যই সামনের দিকে। কিন্তু মাঝেমধ্যে অতীতের কথা না ভেবে পারা যায় না। জীবনের শেকড় এবং গতিশীলতা সম্পর্কে উপলব্ধির জন্যই নস্টালজিয়ার গুরুত্ব রয়েছে। সর্বোপরি, আমাদের মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো একটু বেশি করে প্রকাশ করার জন্যই নস্টালজিয়া একটি প্রয়োজনীয় বিষয়।’ সেডিকিডস ও তাঁর সহযোগীরা দশকব্যাপী গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন, নস্টালজিয়ার প্রভাবে মানুষ নিজ জীবনকে অর্থবহ এবং অমোঘ মৃত্যুকে তুলনামূলক কম ভীতিকর হিসেবে অনুভব করে। একজন ব্যক্তি যখন আকুলভাবে নিজের অতীতের বিবরণ দেন, তখন তিনি আসলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। ব্যক্তির একাকিত্ব, বিরক্তি ও উদ্বেগ নিরসনে নস্টালজিয়ার ভূমিকা রয়েছে। এই বিশেষ অনুভূতি একজন মানুষকে আশপাশের অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তুলনামূলক উদার ও সহনশীল হিসেবে তুলে ধরে। প্রেমিকযুগল বা দম্পতি যখন কোনো বিষয় নিয়ে স্মৃতিকাতর হন, তখন তাঁদের নৈকট্য বাড়ে। আর অত্যন্ত ঠান্ডা কোনো দিনে সুখের দিনগুলো মনে করে আশপাশের পরিবেশকে কার্যত উষ্ণ করে তোলা যায়।

