home top banner

News

বসুন্ধরার সাহায্য: আবার স্বপ্ন দেখছে শিশুরা
22 July,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   17

  ৬ বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার আজ খুবই খুশি। ১৫ দিন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে থাকার পর ছাড়া পাচ্ছে সে।

গত রোববারে হার্টের অপারেশনের পর এখন বেশ সুস্থ। মুখে হাসি লেগে আছে ফাতেমার। আবার স্কুলে যাবে, বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করে কাটবে সময়। জীবনে বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বেঁচে আছে তার।
ফাতেমার মতো শাকিলুজ্জামান (২) এবং লিপি আক্তারের (১৬) মুখে হাসি ফোটাতে তাদের হৃদযন্ত্রের অপারেশনের ব্যয়ভার নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
রোববারের অপারেশনের পর ফাতেমাকে কার্ডিওলজি বিভাগের ৪০৩৩নং ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়েছে। এক বছরের পর্যবেক্ষণে এখন বেশ সুস্থ সে। বাংলানিউজকে এই শিশু বলেছে, ‘আবার আমি স্কুলে যাবো, সবার সঙ্গে খেলাধুলা করবো। আমার স্কুলের নাম গ্রিন লিফ ইন্টারন্যাশনাল।’
 
জন্মের ৩৫ দিনের মাথায় হৃদযন্ত্রের সমস্যা ধরা পড়ে ফাতেমার। প্রথমে চিকিৎসকরা নিউমোনিয়া বললেও পরে হৃদরোগ ধরা পড়ে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছিল না বাবা ইউনুস মিয়া এবং মা নাজমা বেগমের। 
 
মিরপুর ১৪নং এর বাসিন্দা ইউনুস মিয়া সবজির ব্যাবসা করেন এবং নাজমা বেগম একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। 
 
ইউনুস মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত ৬ বছর ধরে অনেক জায়গায় ঘুরেছি। সে সময় চিকিৎসক বলেছিলেন আর একটু বড় হলে অপারেশন করতে হবে। তখন থেকেই টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করি। আমাদের আয় দিয়ে ৩ লাখ টাকা জমানো সম্ভব নয়। তাই নিরুপায় হয়ে অনেক জায়গায় সাহায্যের হাত বাড়াই। দেশের অনেক বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে হাত বাড়িয়েছি, কাজ হয়নি।’ 
 
নাজমা বলেন, ‘গত ৪ মাস ধরে ফাতেমার সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। হাঁটতে, বসতে সমস্যা হতো। তখন এক প্রতিবেশী এসে বললেন বসুন্ধরা গ্রুপের কথা। পরে বসুন্ধরা গ্রুপের কাছেও আবেদন জানাই। আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের ফাতেমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন বসুন্ধরা চেয়ারম্যান। মহানুভব লোকটির প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ 
 
দুই বছরের ছোট শিশু শাকিলুজ্জামানের দেখা মেলে হাসপাতালের ইকো বিভাগে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শহীদুল ইসলাম ইকো করাচ্ছিলেন শিশুটিকে। পাশে বসে রয়েছে মা তহুপা বেগম। 
 
মায়ের কোলে শুয়ে আছে শাকিল, ইকো শেষে কথা হয় তহুপা বেগমের সঙ্গে।
জন্মের ২৮ দিনের মাথায় হৃদযন্ত্রের সমস্যা ধরা পড়ে শাকিলের। তার বাবা মিন্টু মোল্লা মাটি কেটে সংসার চালান। মিন্টুর পক্ষে সম্ভব হয়না ছেলের অপারেশনের খরচ জোগানো।
নড়াইলের লোহাগড়ার এ পরিবার হিমশিম খায় প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে। চাঁদের মতো সুন্দর ফুটফুটে শাকিল। সমাজের অনেক বিত্তবানদের কাছে হাত পেতেছেন এই দম্পতি, সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে। সাড়া মেলেনি। গত আট মাস ধরে কোন ওষুধও খাওয়াতে পারছিলেন না শাকিলকে।
গ্রামেরই এক প্রতিবেশী বললেন, ‘পত্রিকায় সাহায্য চেয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার কথা। আত্মীয় স্বজনের থেকে ৭ হাজার টাকা ধার করে ঢাকা আসেন মিন্টু ও তহুফা। একটি জাতীয় দৈনিকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেন সন্তানকে বাঁচানোর আবেদন জানিয়ে। পরদিনই ফোন দেয়া হয় বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে। বললো টাকা দিবে না, চিকিৎসা করিয়ে দিবে।’
তহুফা বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপই সবকিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছে এখানে চিকিৎসা করার। তা না হলে আমরা এতো ভাল চিকিৎসা এবং সেবা পেতাম না, এতো বড় হাসপাতালে আসতে পারতাম না। 
 
পেড্রিয়াটিক ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে আছে ১৬ বছরের লিপি আক্তার। পাশে বসে আছেন বৃদ্ধ বাবা খলিল মিয়া এবং মা সোফিয়া খাতুন। কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় বাড়ি তাদের।
হৃদযন্ত্রের অসুস্থতায় দশম শ্রেণির পর আর পড়তে পারেনি লিপি। ২ বছর আগে এ রোগ ধরা পড়েছিল তার। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন অপারেশন ছাড়া বাঁচানোর উপায় নেই। কিন্তু সবজি ব্যবসায়ী খলিল মিয়া এবং মানুষের বাসায় কাজ করা সোফিয়ার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না চিকিৎসা খরচ জোগাড় করার।
একে একে ৬টি মেয়ের বিয়ে দেয়ার খরচ চালাতে হয়েছে এই প্রবীণ দম্পতিকে। সপ্তম মেয়ে লিপি। এরপরে রয়েছে ১৩ বছরের পান্না। আট মেয়ের জনক-জননী নীরবে দেখে যাচ্ছিলেন লিপি’র কষ্ট। ব্যাথা বাড়লে হাত-পা ফুলে উঠতো। চিকিৎসকের থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়ানো হলে সারতো। আবার কয়েকদিন পর সমস্যা দেখা দিতো।
বাজারের সবজি বিক্রি করার সময় খলিল মিয়া’র পরিচয় হয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে। তিনি খলিলকে বলেন বসুন্ধরা গ্রুপের কথা।
খলিল মিয়া বলেন, ‘সেই সাংবাদিকই আমাকে নিয়ে যান বসুন্ধরা গ্রুপে। তারপর আমার মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তারা।
এক সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে চোখের পানি ফেলতে শুরু করেন সোফিয়া খাতুন।
তিনি বলেন, ‘অপারেশনের জন্যে দুই লাখ টাকা লাগতো। আমরা গরীব মানুষ, টাকা জোগাড় করতে পারি নাই। বসুন্ধরা না দিলে বাঁচাইতে পারতাম না মাইয়ারে। যে এই রকম সাহায্য করছে উনি অনেক ভাল মানুষ। উনার অনেক টাকা আছে, আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন আরো টাকা হয়। তাইলে আমগো মতো গরীবগরে সাহায্য করবো।’
 
স্বপ্নগুলো ধূসর হয়ে যাচ্ছিল লিপির। এখন আবার স্বপ্ন দেখে স্কুলে যাবে। এক সময় এসএসসি পাশ করবে, তারপর কলেজ, তারপর...অনেক অনেক....
 
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ১০৮ বছরে বাবা !
Previous Health News: গুয়াংজু মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতাল যেন মৃত্যুপুরী!

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')