কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট। দোকানে দোকানে ঝুলছে কাঁচা-পাকা কলার কাঁদি। পাকা কলাগুলো দেখতে হলুদ রঙের হলেও গন্ধ নেই। সারি সারি আড়তগুলোর একটিতে গিয়ে দেখা গেল, মেঝের এক কোণে মোটা পলিথিনে ঢেকে রাখা কলার স্তূপে আগুন জ্বালিয়ে তাপ দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত একজন শ্রমিক জানান, পোড়ানোর আগে কাঁচা কলার ছড়া রাইপেন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড-মিশ্রিত পানিতে ডোবানো হয়। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পাকানো হয় কলা।
গত রোববার দুপুরে শহরের কস্তুরাঘাটের ফলের আড়তে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এই আড়তগুলো থেকে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের উপজেলায় কলা সরবরাহ করা হয়। রমজান মাস আসায় বেড়েছে কলার চাহিদা। ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো এই কলাই রোজাদারেরা ইফতার ও সেহরির সময় খাচ্ছেন।
কস্তুরাঘাটের আড়তের মালিক আবদুল করিম (৩৫) বলেন, ‘রংপুর থেকে আমরা ট্রাকে করে সাগরকলা এখানে নিয়ে আসি। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কলা পাকানোর জন্য আমরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে নিচে আগুনের তাপ দিই। কিন্তু কার্বাইড ব্যবহার করি না।’ তিনি নিজে এভাবে কলা পাকানোর কথা অস্বীকার করলেও অন্য আড়তগুলোতে রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে বলে স্বীকার করেন।
কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা খুব দ্রুত পচেও যায়। লালদীঘিপাড়ের খুচরা বিক্রেতা মুজিবুর রহমান (২৩) বলেন, ‘আড়ত থেকে পাকানো সাগরকলা আমরা তিন থেকে পাঁচ টাকায় (প্রতিটি) বিক্রি করছি। সকালে কিনে সন্ধ্যার মধ্যে কলা বিক্রি সম্ভব না হলে লোকসান গুণতে হয়। কারণ, বিষাক্ত কলা ১২ ঘণ্টার বেশি রাখলে পচে যায়।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমারও কলায় রাসায়নিক দেওয়া হয় বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও প্রপিট দিয়ে কলাসহ বিভিন্ন ফল পাকানো হচ্ছে। কিন্তু কাজটি অতি গোপনে করা হয় বলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাইপেন খেতের পোকামাকড় দমনে কীটনাশক হিসেবে এবং প্রপিট উদ্ভিদের ফুল, ফল ও পাতার বৃদ্ধিতে ব্যবহূত হয়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, দ্রুত ফল পাকানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা কলাসহ আম, কাঁঠাল, কমলা, আঙুর ও আনারসে কার্বাইড ব্যবহার করছেন।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অরূপ দত্ত বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করলে ফলের স্বাদ নষ্ট হয়। বিষ মেশানো ফল পেটে গেলে লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনকি ক্যানসারও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য এসব ফল মারাত্মক ক্ষতিকর।
জেলাপ্রশাসক মো. রুহুল আমীন বলেন, ভেজাল খাবার পরিবেশন এবং মাছ, তরিতরকারি কিংবা ফলে রাসায়নিকের প্রয়োগ বন্ধ করতে ভেজালবিরোধী বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত এখন মাঠে রয়েছে। কলায় রাসায়নিক মেশানো বন্ধে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

