home top banner

খবর

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ কবে শেষ হইবে
২৮ জুন, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   24

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হইয়াছিল ২০০৮ সালের ২০ জুন। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শুরু করিয়াছিল একই বত্সরের ২৫ আগস্ট। কার্যাদেশপ্রাপ্তির দেড় বত্সরের মধ্যে কাজটি শেষ করিবার বাধ্যবাধকতা ছিল। ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ বত্সর অতিক্রম হইতে চলিয়াছে। কিন্তু কাজ শেষ হইবার কোনো আলামত দেখা যাইতেছে না। কাজটি তদারকির দায়িত্বে আছেন পিরোজপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তিনি ইত্তেফাককে জানাইয়াছেন যে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হইয়াছে। তাহা হইলে সমগ্র কাজটি কবে শেষ হইবে— এই প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক হইলেও তাহার উত্তর পাওয়া যায় নাই। অথচ নাজিরপুর, ভাণ্ডারিয়া ও স্বরূপকাঠী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজও শুরু হইয়াছিল একই সময়ে। সেইগুলি যথাসময়ে সম্পন্নও হইয়াছে। কিন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রে এক যাত্রায় ভিন্ন ফল কেন হইল— সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই তাহা বলিতে পারিবেন। 

কর্তৃপক্ষের ভাণ্ডারে যুক্তি বা অজুহাতের অভাব যে কোনোকালেই ঘটে নাই— তাহা কাহারো অজানা নহে। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হইবার কারণ নাই। তবে যতো যুক্তিই দেখানো হউক না কেন— সর্ব ক্ষেত্রেই তাহার কুফল ভোগ করিতে হয় সর্বংসহা জনগণকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাহাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়া গেলেও প্রতিকার মেলে না। অপেক্ষা করিতে হয় সাভারের রানা প্লাজার মতো গুরুতর কোনো বিপর্যয়ের জন্য। কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রেও অনুরূপ আশঙ্কা একেবারে উড়াইয়া দেওয়া যায় না। বর্তমানে কাউখালীতে ৩১ শয্যার যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি রহিয়াছে তাহার অবস্থা এতোটাই জরাজীর্ণ যে চিকিত্সকরাও দায়িত্ব পালন করিতে ভরসা পাইতেছেন না। আতঙ্ক বিরাজ করিতেছে চিকিত্সাধীন রোগী, কর্মরত চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে। আতঙ্কিত হইবারই কথা। ভবনের দেওয়ালে ও ছাদে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়াছে। খসিয়া পড়িতেছে প্লাস্টার। প্রদত্ত কার্যাদেশে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ভবনের সংস্কারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কথায় আছে সময়ের একফোঁড় অসময়ের শত ফোঁড়ের চাইতেও অধিক কার্যকর। কিন্তু সময়ের কাজ সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ শুধু যে উন্নততর চিকিত্সাসেবা হইতে বঞ্চিত হইতেছেন তাহাই নহে, ইতিমধ্যে বিদ্যমান ভবনটিও সংস্কারের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। দেখা দিয়াছে গুরুতর দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। 

বলার অপেক্ষা রাখে না যে কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের নিকট হইতে সময়মতো কাজটি বুঝিয়া লইবার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ বা অসমর্থ হইলে কার্যাদেশের শর্ত বা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হইবে— ইহাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ১৮ মাসের স্থলে ৫৮ মাস অতিক্রান্ত হইবার পরও কিভাবে কাজটির বৃহদংশই অসমাপ্ত পড়িয়া আছে— তাহা আমরা বুঝিতে অক্ষম। আমরা আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইহার অন্তর্নিহিত কারণটি খুঁজিয়া বাহির করিতে উদ্যোগী হইবেন। সেই সাথে নিশ্চিত করিবেন দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জবাবদিহিতা। সর্বাপেক্ষা জরুরি বিষয়টি হইল, অনতিবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত করা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা।

 

সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ফলে মেশানো রাসায়নিকের প্রভাব পড়ছে পরিবেশেও
Previous Health News: ম্যান্ডেলার অবস্থার উন্নতি হলেও সংকট কাটেনি

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')