কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হইয়াছিল ২০০৮ সালের ২০ জুন। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শুরু করিয়াছিল একই বত্সরের ২৫ আগস্ট। কার্যাদেশপ্রাপ্তির দেড় বত্সরের মধ্যে কাজটি শেষ করিবার বাধ্যবাধকতা ছিল। ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ বত্সর অতিক্রম হইতে চলিয়াছে। কিন্তু কাজ শেষ হইবার কোনো আলামত দেখা যাইতেছে না। কাজটি তদারকির দায়িত্বে আছেন পিরোজপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তিনি ইত্তেফাককে জানাইয়াছেন যে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হইয়াছে। তাহা হইলে সমগ্র কাজটি কবে শেষ হইবে— এই প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক হইলেও তাহার উত্তর পাওয়া যায় নাই। অথচ নাজিরপুর, ভাণ্ডারিয়া ও স্বরূপকাঠী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজও শুরু হইয়াছিল একই সময়ে। সেইগুলি যথাসময়ে সম্পন্নও হইয়াছে। কিন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রে এক যাত্রায় ভিন্ন ফল কেন হইল— সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই তাহা বলিতে পারিবেন।
কর্তৃপক্ষের ভাণ্ডারে যুক্তি বা অজুহাতের অভাব যে কোনোকালেই ঘটে নাই— তাহা কাহারো অজানা নহে। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হইবার কারণ নাই। তবে যতো যুক্তিই দেখানো হউক না কেন— সর্ব ক্ষেত্রেই তাহার কুফল ভোগ করিতে হয় সর্বংসহা জনগণকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাহাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়া গেলেও প্রতিকার মেলে না। অপেক্ষা করিতে হয় সাভারের রানা প্লাজার মতো গুরুতর কোনো বিপর্যয়ের জন্য। কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রেও অনুরূপ আশঙ্কা একেবারে উড়াইয়া দেওয়া যায় না। বর্তমানে কাউখালীতে ৩১ শয্যার যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি রহিয়াছে তাহার অবস্থা এতোটাই জরাজীর্ণ যে চিকিত্সকরাও দায়িত্ব পালন করিতে ভরসা পাইতেছেন না। আতঙ্ক বিরাজ করিতেছে চিকিত্সাধীন রোগী, কর্মরত চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে। আতঙ্কিত হইবারই কথা। ভবনের দেওয়ালে ও ছাদে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়াছে। খসিয়া পড়িতেছে প্লাস্টার। প্রদত্ত কার্যাদেশে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ভবনের সংস্কারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কথায় আছে সময়ের একফোঁড় অসময়ের শত ফোঁড়ের চাইতেও অধিক কার্যকর। কিন্তু সময়ের কাজ সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ শুধু যে উন্নততর চিকিত্সাসেবা হইতে বঞ্চিত হইতেছেন তাহাই নহে, ইতিমধ্যে বিদ্যমান ভবনটিও সংস্কারের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। দেখা দিয়াছে গুরুতর দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের নিকট হইতে সময়মতো কাজটি বুঝিয়া লইবার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ বা অসমর্থ হইলে কার্যাদেশের শর্ত বা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হইবে— ইহাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ১৮ মাসের স্থলে ৫৮ মাস অতিক্রান্ত হইবার পরও কিভাবে কাজটির বৃহদংশই অসমাপ্ত পড়িয়া আছে— তাহা আমরা বুঝিতে অক্ষম। আমরা আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইহার অন্তর্নিহিত কারণটি খুঁজিয়া বাহির করিতে উদ্যোগী হইবেন। সেই সাথে নিশ্চিত করিবেন দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জবাবদিহিতা। সর্বাপেক্ষা জরুরি বিষয়টি হইল, অনতিবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত করা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

