আপনার সন্তান দিনের বেশির ভাগ সময়টাই কাটায় টিভিতে কার্টুন দেখে। শিশুদের এ অতিরিক্ত কার্টুন আসক্তির মূল কারণ কী তা নিয়ে লিখেছেন হাছিনা আক্তার মনি
আপনার সন্তান বা ছোট ভাইবোন কি অতিরিক্ত কার্টুন দেখছে। আপনি কি তাতে সম্মতি দিচ্ছেন? নাকি নিষেধ করছেন? নিষেধ করলেও কি আপনার কথা শুনছে? এমন আরও অনেক প্রশ্ন। একটি কার্টুন চিত্র যে আপনার সন্তানের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা হয়তো আপনি বুঝতেও পারছেন না কিংবা বোঝার চেষ্টাও করছেন না। কারণ কার্টুন দিলেই সে শান্ত হয়ে থাকছে। তাকে খাওয়ানো যাচ্ছে, কান্নাকাটি করছে না। ভালোই তো! টিভি বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম যা ছোট-বড় সবার জন্যই সব রকম বিনোদনের ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যস্ততা বৃদ্ধি এবং যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ায় টিভি যেন আমাদের আরও কাছের ও অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হয়ে উঠেছে। শিশুরা কার্টুন দেখবেই, ভিডিও গেমও খেলবে। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সেটা মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। অতিরিক্ত কার্টুন দেখা বা ভিডিও গেমসে আসক্ত থাকা শিশুর মানসিক ও শারীরিক উভয় ধরনের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। শিশুদের ক্ষেত্রে টিভি দেখা তখনই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে গণ্য হয় যখন এটা অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে চলে যায়।
জেনে নেওয়া যাক কেন এই কার্টুনাসক্তি
ষ শিশুদের পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে কার্টুন বা ভিডিও গেমসে আসক্ত হয়।
ষ মা-বাবা পর্যাপ্ত সময় না দিলে শিশু একাকিত্ব দূর করতে টিভি বা কম্পিউটার বেছে নেয়।
ষ শিশু কাজের লোকের কাছে বড় হলে অনেক সময় কাজের লোক শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য কার্টুন দেখতে উৎসাহিত করে।
ষ অলস সময় কাটালে শিশু টিভি বা গেমসে আসক্ত হয়ে ওঠে। ফলে একপর্যায়ে সে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
ষ টিভি দেখা বা গেমস খেলা দুটিই যেহেতু একপক্ষীয় অর্থাৎ এখানে অন্য পক্ষের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান হয় না, ফলে বাধাগ্রস্ত হয় শিশুর মানসিক বিকাশ।
ষ অতিরিক্ত কার্টুন দেখা বা কম্পিউটারে বসে থাকা শিশুর চোখেরও যথেষ্ট ক্ষতি হয়।
ষ কার্টুন বা ভিডিও গেমসের অধিকাংশই মারামারি ও সহিংসতাপূর্ণ। এগুলো থেকে শিশু সহিংস হয়ে ওঠে। অনেক সময় মারামারি শেখে এবং খুব সহজেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
ষ অনেক সময় শিশু শুধু কার্টুনের চরিত্রের নেতিবাচক দিকগুলোই শেখে।
ষ শিশুর পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। স্কুলের প্রতিও তৈরি হয় অনীহা।
কার্টুনাসক্তি দূরীকরণে অভিভাবকদের করণীয়
ষ যদি প্রচুর খেলার সুযোগ দেওয়া যায়, তার কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে উদ্দীপিত করে খেলার বিভিন্ন নির্দেশনা, নিয়ম পর্যায়ক্রম ইত্যাদি বুঝতে ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে।
ষ শারীরিক অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে শিশু নিজের বডি ফিটনেস সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। যেমন_ বাস্কেটবল, ফুটবল, সাইকেল চালানো, স্কেটিং, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি।
ষ মাইন্ড গেমস যেমন_ অক্ষর নিয়ে খেলা, ছোট ছোট সহজ ধাঁধা, প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাওয়া যাতে তার চিন্তা কল্পনার ব্যবহার হয়।
ষ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যে, কত সময় টিভি দেখবে, কোন কোন নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দেখবে ইত্যাদি।
ষ শিশুকে বুঝতে দেওয়া যে, টিভি হচ্ছে তার জন্য একটা বিনোদনের সুযোগ মাত্র, দৈনন্দিন রুটিন নয়।
ষ সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত রাখা; যেমন_ আর্ট, গান, অভিনয়, নাচ আবৃত্তি ইত্যাদি।
ষ প্রচুর গল্পের বই শিশুকে পড়ে শোনানো, লাইব্রেরির সঙ্গে যুক্ত করা ও বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলা।
ষ সংসারের ছোট ছোট কাজে তাকে উৎসাহিত দেওয়া; যেমন_ একটি গ্গ্নাস নিয়ে আসা, টেবিল থেকে একটি কলম নিয়ে আসতে বলা ইত্যাদি।
ষ সর্বোপরি লক্ষ্য রাখতে হবে, আপনার আদরের শিশুটি যেন কোনোভাবেই বিষণ্নতায় না ভোগে।
সূত্র - samakal.com.bd

