যাদের মৃগী রোগ ও হৃদরোগ রয়েছে তারা বলেন, গাঁজা সেবনে তাদের বেশ উপকার হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, গাঁজা সেবনে মৃগী ও হৃদরোগে কতটা উপকারী তার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু দেখা গেছে, আমেরিকার অনেক বাবা-মাই তার মৃগী রোগে আক্রান্ত ছেলে-মেয়েদের গাঁজা খাওয়াচ্ছেন।
কলোরাডোর এক মা জটিল মৃগী রোগে আক্রান্ত মেয়েকে গাঁজা খাওয়ান। তিন বছর বয়স থেকে মেয়েটির জটিল ধরনের মৃগী রোগ রয়েছে। মা তার মেয়েকে একেবারে ছোট বয়স থেকেই গাঁজার নির্যাস খাওয়াতেন। মৃগী রোগের অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে গাঁজার এই নির্যাস খাওয়ার পর তার অসম্ভব রকমের উন্নতি হয়। এই ঘটনা 'এপিলেপসিয়া' জার্নালে প্রকাশিত হয় এবং বলা হয় এখন ভালো আছেন কার্লোটি নামের মেয়েটি।
আরো ১৯ জন মা তার মৃগী রোগে আক্রান্ত সন্তানকে গাঁজা খাইয়ে ব্যাপক উপকারিতা পেয়েছেন। প্রত্যেক মায়েরা বলেন, গাঁজার চিকিৎসা দেওয়ার পর সন্তানের সমস্যা ৮০ শতাংশ কমে গেছে।
তবে বিজ্ঞানীরা যেহেতু এখনো এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাননি তাই তাদের মতে, সম্ভবত রোগীদের মধ্যে গাঁজার প্রভাবে নিজেকে সুস্থ বলে মনে হয়েছে। ঠিক যেমনভাবে একটি মানুষকে ভুয়া একটি ওষুধ দিয়ে যদি বলা হয় এতে তোমার মাথা ব্যথা এখুনি সেরে যাবে, ওষুধটি খেয়ে তার মনে হবে ব্যথা আসলেও কমে যাচ্ছে।
বলা হচ্ছে, গাঁজার মধ্যে বহু উপাদান রয়েছে যার একটি ক্যানাবিডিওল (সিবিডি)। এই উপাদানটি মৃগী রোগ সারাতে কাজ করছে। তবে এসব কল্পনাপ্রসূত ব্যাখ্যায় গাঁজা দিয়ে মৃগী রোগ ভালো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে বলে জানান ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পেডিয়াট্রিক এপিলেপসি রিসার্চের প্রধান ড. মারিয়া রবার্তা সিসিলো।
ড. মারিয়া বলেন, জীব-জন্তুর ওপর গাঁজার নানা প্রভাব নিয়ে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষা থেকে এসেছে নানা ধরনের ফলাফল।
১৯৭০, '৮০ এবং '৯০ এর দশকে গাঁজার সিবিডিসহ অন্যান্য উপাদান নিয়ে গবেষণা হয়। কিন্তু তা মৃগী রোগে কোনো উপকার আনে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
'তাই এখন গাঁজা নিয়ে আরো বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন। কারণ নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এর ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। কারণ এর উপাদানগুলো কম বয়সীদের মস্তিষ্কে ক্ষতি বয়ে আনতে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন ড. মারিয়া।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

