শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকার অবহেলায় গতকাল সোমবার শিপ্রা রানী দাস (২২) নামের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিপ্রার পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেবিকাদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
শিপ্রা শহরের গোপালবাড়ী মহল্লার অতুল চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী গ্রামের নিবারণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন নারায়ণ চন্দ্র দে ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিিট গঠন করেছেন।
শিপ্রার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিপ্রার প্রসব বেদনা শুরু হলে গত রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) শরিফুল ইসলাম কিছু ওষুধপত্র লিখে দেন। কিন্তু রাতে শিপ্রার অবস্থার অবনতি হয়৷ শিপ্রার আত্মীয়স্বজন একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও শরিফুল সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে যাননি। এ ছাড়া, কর্তব্যরত সেবিকা লুৎফুন্নেছা ও জমেলাকে বারবার অনুরোধ করলেও তাঁরা শরিফুল বা গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ফোন দেননি। গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শিপ্রার অবস্থার আরও অবনতি হয়৷ এ পর্যায়ে লুৎফুন্নেছা তাঁকে (শিপ্রা) একটি ‘ল্যাসিক্স’ ইনজেকশন দেন। ভোর সোয়া ছয়টার দিকে শিপ্রার মৃত্যু হয়।
মৃত শিপ্রার মা শেফালী রানী দাস বলেন, শিপ্রার সন্তান প্রসবের তারিখ ছিল ২৫ মে। তার আগেই প্রসব বেদনা ওঠায় তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা দায়িত্বে অবহেলা করায় শিপ্রার মৃত্যু হয়েছে৷ দায়ী চিকিৎসক ও সেবিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
শিপ্রার ছোট বোন আন্না জানান, শিপ্রা মারা যাওয়ার পর তাঁর ছোট ভাই দেবাশীষ চন্দ্রের (১৬) কাছে থেকে লুৎফুন্নেছা হাসপাতালের টিকিটে জোর করে সই নিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে লুৎফুন্নেছা বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে শিপ্রাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছিলেন। সে বিষয়টি জানাতে দেবাশীষের কাছ থেকে সই নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তবে শরিফুল বলেন, রাতে জরুরি বিভাগে আনার পরপরই শিপ্রাকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এরপর রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ার বিষয়টি কতর্ব্যরত সেবিকা তাঁকে (শরিফুল) জানাননি। রোগীর রক্ত চাপ বেড়ে গেলে তা কমতে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়৷ মূলত উচ্চ রক্তচাপে শিপ্রার মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

