কত রকমের ফলই তো আছে। কিন্তু সব কি আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হয়? তবে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল তো যেনতেন কিছু নয়।
ভারতীয় উপমহাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে ফলটিকে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ব্যাপ্তি হবে বিশ্বময়।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে কাঁঠাল জনপ্রিয় করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাণিজ্য থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও আসতে পারে। শুকিয়ে সংরক্ষণের পাশাপাশি স্যুপ, চিপস, রস (জুস), আইসক্রিম ইত্যাদি খাবার তৈরিতেও কাঁঠাল ব্যবহার করা যায়। এই গাছের কাঠও অনেক দামি।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং শিকাগো বোটানিক গার্ডেনের উদ্ভিদ জীববিদ্যা ও সংরক্ষণ বিভাগের শিক্ষক নাইরি জেরেগা বলেন, কাঁঠালের অনুকূল আবাস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলেও ফলটির ‘যথাযথ ব্যবহার’ নেই।
মার্কিন এ গবেষকের বক্তব্যের সত্যতাও রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশে একসময় বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হলেও এখন ফলটির কদর কমে এসেছে। তাই ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে দুদিনের একটি আয়োজনের মাধ্যমে কাঁঠালের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কাঁঠালের উৎপাদন বৃদ্ধি একটি সমাধান হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন। নাইরি জেরেগা বলেন, কাঁঠালগাছ একবার রোপণের পর খুব কম যত্ন নিলেও চলে। কিন্তু ধান, গম ও ভুট্টার মতো জনপ্রিয় অন্যান্য শস্য উৎপাদনে প্রচুর সেচ দিতে হয় এবং কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। কাঁঠাল চাষে এসব ঝামেলা নেই বললেই চলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ জোনাথান ক্রেন বলেন, কাঁঠালগাছ বহুবর্ষজীবী হওয়ায় এটি প্রতিবছর রোপণের প্রশ্ন আসে না। গ্রীষ্মকালীন একেকটা গাছে পাঁচ থেকে সাত বছর যাবৎ ফল ধরে। তা ছাড়া কোনো কোনো গাছে বছরে ১৫০ থেকে ২০০টি কাঁঠাল ধরে।
বড় ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের এই কাঁঠালে রয়েছে কস্তুরীর মতো ঘ্রাণ। বৃক্ষে জন্মানো ফলের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। এটি প্রায় ১০০ পাউন্ড (৪৫ কেজি) পর্যন্ত হতে পারে। গাছের ডালে বা মধ্যশরীরে ধরে এই ফল। ঝুলন্ত ফল মাটি থেকে ৩০, ৪০ ও ৫০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে থাকতে পারে। কাঁঠালের পুষ্টিগুণও অনেক। এটি উচ্চ মাত্রার প্রোটিন, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি-সমৃদ্ধ। আর প্রতি আধা কাপ কাঁঠালের পুষ্টিমান প্রায় ৯৫ ক্যালরি, যার মাত্রা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাবারের (ভাত বা অন্যান্য শস্যকণা) চেয়ে কম।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক থিওফ্রাসটাস লিখেছেন, ‘আরেকটি বৃক্ষ রয়েছে, যা অত্যন্ত বড় এবং যার ফল অসাধারণভাবে মিষ্টি। ভারতের বস্ত্রহীন ঋষিরা এই ফল খান।’ সম্ভবত কাঁঠালের কথাই লিখেছিলেন থিওফ্রাসটাস। ফলটির উৎস ভারতবর্ষেই। বাংলাদেশে এটি কাঁঠাল নামে পরিচিত হলেও থাইল্যান্ডে কানুন এবং মালয়েশিয়ায় ফলটির নাম নাংকা। এনপিআর।
সূত্র - প্রথম আলো

