উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়ামযুক্ত ঝুট চামড়া থেকে মুরগির খাবার তৈরির অভিযোগে গতকাল বুধবার রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি কারখানা সিলগালা করে দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারখানায় থাকা মালিকের ছেলে শহীদুল ইসলামকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী র্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল আমীন বলেন, কারখানার মালিক মকবুল আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা এবং কারখানায় মজুত তিন হাজার বস্তা ক্রোমিয়ামযুক্ত মাছ-মুরগির খাবার ধ্বংসের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবুল হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে ঢুকে পড়া ক্রোমিয়ামের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি ওই কারখানায় থাকা মুরগির খাবারের নমুনা সেখানেই পরীক্ষা করে দেখান যে তাতে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম রয়েছে।
অধ্যাপক আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতি কেজিতে দশমিক ০৫ থেকে দশমিক ২ মিলিগ্রাম ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু চাষের মাছ-মুরগির মাধ্যমে এই মাত্রার চেয়ে কয়েক শ থেকে হাজার গুণ বেশি ক্রোমিয়াম মানুষের শরীরে ঢুকছে। উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়ামসমৃদ্ধ ঝুট চামড়া দিয়ে তৈরি মাছ-মুরগির খাবার থেকে এই ক্রোমিয়াম মানুষের শরীরে যাচ্ছে; যা কিডনি, যকৃৎসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করছে। তিনি বলেন, ট্যানারিগুলোতে পশুর চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর ক্রোমিয়াম ব্যবহূত হয়। এর আগে রাসায়নিক পরীক্ষায় তিনি প্রতি কেজি ঝুট চামড়ায় ১৪ গ্রাম ক্রোমিয়ামের অস্তিত্ব পেয়েছেন। আর এগুলো গুঁড়ো করে তৈরি প্রতি কেজি মুরগির খাবারে ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে আট গ্রাম করে। গবেষণাগারে সেই খাবার মুরগিকে এক মাস খাওয়ানোর পর পরীক্ষায় দেখা গেছে যে মুরগির মাংস, রক্ত, মগজ, হাড় ও গিলা-কলিজায় উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে তা দশমিক ৭ থেকে দশমিক ২৫ গ্রাম।
গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ট্যানারি থেকে ফেলে দেওয়া টুকরা চামড়া শুকিয়ে সেগুলো যন্ত্রে মিহি গুঁড়া করে বানানো হচ্ছে মুরগির খাবার। ‘মাল্টি প্রোটিন’ নামে বাহারি প্যাকেটে ও বস্তায় তা বাজারজাত করা হয়। কারখানার মালিকের ছেলে শহীদুল দাবি করেন, শুধু চামড়া নয়, শুঁটকি মাছ ও গরু-মহিষের হাড়ের গুঁড়া মিশিয়ে এই খাবার তৈরি হয়। কিন্তু তাঁর কারখানায় ঝুট চামড়া ছাড়া আর কোনো কাঁচামাল দেখা যায়নি।
গাবতলী-সোয়ারীঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে একই রকম আরও ১৫ থেকে ২০টি কারখানা রয়েছে। ট্যানারির ফেলে দেওয়া ঝুট চামড়াকে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে মাছ-মুরগির খাবার তৈরির এসব কারখানা।
র্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, এ রকম কোনো কারখানার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযান। আশপাশের কারখানাগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানো হবে। অভিযানে র্যাবের দলটির নেতৃত্ব দেন মেজর আরিফুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা।
সূত্র - প্রথম আলো

