লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হয়ে জেলার ৫টি হাসপাতালে আরো শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে।
শুক্রবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জগতবেড়া ইউনিয়নের আলিফ (৭ মাস) নামের এক শিশু বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। শিশুটির বাবার নাম নয়ন হোসেন।
একই রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিবান্ধা হাসপাতালে মারা যায় ফেরদৌস (১বছর) নামের আরেক শিশু। সে উপজেলার কেটকিবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে কালিগঞ্জের ইসরকুল গ্রামের মিন্টু মিয়ার শিশু কন্যা মর্জিনা (১বছর) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
এছাড়াও দেখা যায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত শতাধিক শিশু হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসা সংকট ও ওষধ সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসা সেবা মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে গিয়েও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মিলছে না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়ার প্রচুর ওষধ সরবারহ থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সরা সে ওষধ রোগীদের দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন হাতিবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এক শিশুর বাবা সাহানুর।
নিহত শিশু ফেরদৌসের বাবা রফিকুল বলেন, "ওই হাসপাতালের আরএমও ডাঃ রমজান আলীর স্বেচ্ছাচারিতার কারনেই তার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।"
ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তিনি আইনী ব্যবস্থা নিবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।
হাসপাতালগুলো সূত্রে জানা গেছে, গত দু’দিনে জেলার ৫টি হাসপাতালে ৮৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
লালমনিরহাট সির্ভিল সার্জন ডাঃ মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার ডায়রিয়ায় মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "প্রচণ্ড ঠান্ডায় কোল্ড ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলেই এ প্রকোপ কমে যাবে।"
"ভয়ের কিছু নেই তবে যারা চিকিৎসকের শরনাপন্ন না হয়ে গ্রাম্য চিকিৎসকের দারস্থ হন, সেই ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।"
সূত্র -poriborton.com

