কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে নতুন চারটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ভর্তি-প্রক্রিয়া শেষ করে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করেছে। তারা বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় লিখিত বা মৌখিকভাবে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়নি।
শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধনী ক্লাস গত শনিবার কলেজের নিজস্ব মিলনায়তনে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস উদ্বোধন করেন কলেজের চেয়ারম্যান সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী।
কলেজের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করার কথা তাঁরা সংবাদপত্রে পড়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাঁদের কোনো নির্দেশ দেয়নি।
ক্লাস শুরু হওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ সিদ্ধান্তের কথা জানে, আর ওই সব কলেজের কর্মকর্তারা জানে না। এটা হতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ ক্লাস শুরু করেছে। দিন দশেক আগে শুরু হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের ক্লাস। গত সপ্তাহে শুরু করেছে চট্টগ্রামের মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ। খুলনার আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু হবে শিগগির। যোগাযোগ করা হলে এ চারটি মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষ প্রথম আলোকে বলেছে, সরকারের লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ না পাওয়ায় তারা ভর্তিসহ সব কাজ অব্যাহত রেখেছে।
মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে ১২টি নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। ২১ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষা ও ভর্তি-সংক্রান্ত কমিটির সভায় এসব কলেজের ভর্তিসহ কর্মকাণ্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক দিন পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ নাসিম নতুন মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করার কথা সাংবাদিকদের বলেন।
১২টি কলেজের মধ্যে ছয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। এই ছয়টিতে ভর্তি-প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য মেডিকেল কলেজগুলো কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও রংপুরের কছিরউদ্দিন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্দেশ মেনে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) এ বি এম আবদুল হান্নান বলেন, বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখে। মেডিকেল শিক্ষার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. আইয়ুবুর রহমানের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র -প্রথম আলো

