গত তিন বছরে ভারতে একটিও পোলিও সংক্রমণ ঘটেনি৷ আগামী মাসে ভারতকে পোলিও রোগ মুক্ত ঘোষণা করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও৷ ভারতকে পোলিওমুক্ত ঘোষণার মধ্যে দিয়ে পোলিওমুক্ত হয়ে উঠবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া৷
সর্বশেষ ২০১১ সালের এই ১৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পোলিও ধরা পড়েছিল৷ তিন বছরে ভারতের আর কোথাও পোলিও সংক্রমণের ঘটনা জানা যায়নি৷ যদিও পোলিও সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ থেমে থাকেনি৷
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সেই তথ্যপঞ্জি পরীক্ষার কাজ শেষ করার পথে৷ সম্ভবত আগামী মাসেই ভারতকে সম্পূর্ণ পোলিওমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করবে ডাব্লিউএইচও৷ আর কেবল ভারতই নয়, এই সঙ্গে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই পোলিওমুক্ত অঞ্চল হয়ে উঠবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে যেটা অত্যন্ত আনন্দের খবর৷
পোলিও প্রতিষেধক নিয়ে নানান ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে মানুষের মধ্যে৷ কখনও তার কারণ সামাজিক কুসংস্কার, অনেকক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস৷ পোলিও-র বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার পাশাপাশি এ সবের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছিলো৷
তবে ভারতে শেষ পোলিও সংক্রমণ তিন বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়লেও, পোলিও কর্মসূচি সবথেকে বেশি বাধা পেয়েছে বিহারে এবং উত্তর প্রদেশে৷ ফলে এই দুই রাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের একটু বেশিই সতর্ক থাকতে হয়েছে৷
উত্তর প্রদেশে শেষ পোলিও রোগ ধরা পড়েছে ২০১০ সালের এপ্রিলে৷ আর বিহারে ওই বছরেরই সেপ্টেম্বরে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতি বছর অন্তত সাত বার পাঁচ বছরের নীচে সব বাচ্চাকে পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানো হয়েছে, যাতে আর একটি সংক্রমণের ঘটনাও না ঘটে৷ পাশাপাশি টিভি এবং খবরের কাগজে নিয়মিত পোলিও সচেতনতা প্রচার করা হয়েছে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে৷ ভারতের চলচ্চিত্র জগতের আইকন অমিতাভ বচ্চনকে দেখা গিয়েছে সেই বিজ্ঞাপনে৷ অবশেষে সাফল্য এসেছে৷
উত্তর প্রদেশে চার লাখ শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে৷ ২০০৯ সালে ওই রাজ্যে যেখানে ৬০২টি পোলিও ধরা পড়েছিল, পরের দু'বছরে সেই সংখ্যাটা শূন্যে এসে দাঁড়িয়েছে৷
পশ্চিমবঙ্গে প্রতি পালস পোলিও দিবসে ৯৭ লাখেরও বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সি বাচ্চাকে ওরাল ভ্যাকসিন খাওয়ানো গেলেও হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার কিছু অঞ্চলে এবং কলকাতার মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলে পোলিও ভ্যাকসিন সম্পর্কে একটা প্রবল আপত্তি এবং বিরোধিতা ছিল৷
অনেক ভুল ধারণার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল, শৈশবে পোলিও ভ্যাকসিন খেলে প্রজনন ক্ষমতা লোপ পাবে! একটা চোরা প্রচার ছিল যে সরকার আসলে কৌশলে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে৷
কয়েকটি ক্ষেত্রে পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ার পর শিশুমৃত্যুর ঘটনাও অপপ্রচারে ইন্ধন জুগিয়েছিল৷ যদিও সবকটি ক্ষেত্রেই ওই শিশুরা আগে থেকে অসুস্থ ছিল বলে পরে জানা যায়৷
সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তর, বিভিন্ন এনজিও এবং ইউনিসেফ-এর স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক চেষ্টায় পোলিও-মুক্তি ঘটল অবশেষে৷
সূত্র - dhakatimes24.com
আশা করি বাংলাদেশ সরকারও ভারতের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রানিত হবেন এবং তাড়াতাড়ি বাংলাদেশও পোলিও মুক্তির সনদ পাবে


Comments