আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে আবার আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তবে বিএনপিকে সন্ত্রাস ও সহিংসতা পথ পরিহার এবং জামায়াতের ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করার শর্ত দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। লিখিত বক্তব্যের শুরুতে তিনি পৌষের বিকেলে গণভবন চত্বরে সবাইকে স্বাগত জানান।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করায় সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শত হুমকি ও বাধা উপেক্ষা করে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, অত্যন্ত সাহসিকতার মাধ্যমে কাজ করায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।’ আর নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহত সদস্যদের চিকিত্সা এবং নিহত ব্যক্তিদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবিলা করে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশপ্রেমিক হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছেন, সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিরোধী দলের সম্মানিত নেত্রীসহ সবাইকে আবার আহ্ববান জানাই—সন্ত্রাস ও সহিংসতা পরিহার করে যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদী জামাতের সঙ্গ ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় আসুন। আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করেই সমাধান করা যাবে। সে জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে, সহনশীল হতে হবে এবং সকল প্রকার রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।’
দেশ অশুভশক্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে
এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ এক অশুভশক্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রের জনগণের জান-মাল রক্ষায় প্রশাসনের সব স্তরকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা যেন ব্যবসা নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গতকাল দেশে বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলের বাধা ও সহিংসতা সত্ত্বেও মানুষ ভোটে অংশ নিয়েছে। তাদের সব অপপ্রয়াস প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে আসায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ধারায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করেন।
নির্বাচন নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু গণতন্ত্র নয়, এ নির্বাচন নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার। এর মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত সোনার বাংলা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এ নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারত। আমি বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতে অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি না এসে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন।’
বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা নৈরাজ্য ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য পরিহার করে শান্তিপূর্ণভাবে আসুন। আগামী নির্বাচনের জন্য আসুন। সবাই শান্তি চায়। কিন্তু বিরোধী দলের সহিংসতায় আজ নিরীহ নাগরিকদের রক্তে গণতন্ত্র আজ রক্তাক্ত।’ এ সময় ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে সব আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে। জনগণ আমাদের পাশে আছে, থাকবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তারা বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।
লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের জন্য চায়ের ব্যবস্থা আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চটজলদি প্রশ্ন করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সংক্ষেপে প্রশ্ন করবেন নয়তো চা ঠান্ডা হয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মসিউর রহমান, গওহর রিজভী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র - প্রথম আলো

