ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাজনৈতিক ঘটনার শিকার পোড়া রোগীদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাঁদের পুনর্বাসন বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ আছে। এ ক্ষেত্রে অর্থও কোনো সমস্যা নয়। প্রধানমন্ত্রী নিজ তহবিল থেকে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে গেছেন।
ঘটনার শিকার অধিকাংশ মানুষ নিম্নবিত্ত, দিনমজুর, ফুল ব্যবসায়ী, অন্যের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। ঘটনার জন্য তাঁরা কেউই দায়ী নন। তাঁদের পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। লঞ্চডুবিতে মারা গেলে সরকার থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পোশাক কারখানার দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের জন্যও রয়েছে সরকারি ক্ষতিপূরণ। কিন্তু রাজনৈতিক ঘটনায় দগ্ধদের জন্য নেই এ ধরনের কোনো উদ্যোগ।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাবা মারা গেলে বাচ্চা কার কাছে যাবে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। রানা প্লাজার ঘটনায় নানা উদ্যোগ আমরা দেখেছি, শুনেছি। এ ক্ষেত্রেও সে রকম হওয়া উচিত।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এসব রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে যোগাযোগ রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পরিচালক জুলফিকার লেনিন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ তহবিল থেকে চিকিৎসার অর্থ দেবেন। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ার কারণে তাঁদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়।
বার্ন ইউনিট প্রকল্পের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বলেন, একজন পোড়া রোগীর চিকিৎসা ব্যয় অনেক। বেসরকারি পর্যায়ে ২০ শতাংশ পোড়া রোগীর চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ৫০ শতাংশ পোড়া রোগীর ব্যয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। সাধারণ মানুষের কাছে এটা অনেক বেশি টাকা। সরকারি বলে ঢাকা মেডিকেলে রোগীকে এই খরচটা করতে হয় না।
চিকিৎসকেরা বলেছেন, পোড়া রোগীর অনেক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। অনেকবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। সেসবের ক্ষতির আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। আবাসিক সার্জন ডা. তানভির আহমেদ বলেন, আগুনে পোড়া রোগীদের ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। তবে রাজনৈতিক ঘটনার শিকার এসব রোগীকে কোনো ওষুধই কিনতে হচ্ছে না।
এ পর্যন্ত চারজন মন্ত্রী এসব রোগী দেখতে ঢাকা মেডিকেলে গেছেন। তাঁদের কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। এ ছাড়া সমাজের নানা স্তরের মানুষ তাঁদের খোঁজখবর নিতে যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ কিছু আর্থিক সহায়তা করছেন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এঁদের কারও কাছ থেকে পুনর্বাসন বা কারও দায়িত্ব নেওয়ার কথা শোনা যায়নি।’
১০০ শয্যার বার্ন ইউনিটে শয্যার তুলনায় রোগী বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পোড়া রোগী ভর্তি ছিলেন ৪২৭ জন। এঁদের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার ৩৪ জন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পোড়া রোগীর শরীর থেকে জলীয় অংশ বের হয়ে যায়। তাঁদের শরীরে প্লাজমা (সাদা রক্ত) দিতে হয়। হাসপাতালে প্লাজমা সরবরাহে কিছু সমস্যা ছিল। তবে বুধবার স্কয়ার হাসপাতাল ৫০ ব্যাগ প্লাজমা দেওয়ায় সেই সংকট দূর হয়েছে বলে আবাসিক সার্জন জানিয়েছেন।
সুত্রঃ প্রথম আলো

