আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। প্রতি বছর ৮ মে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশে এক কোটি ২০ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছে এবং একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার শিশু এ রোগটিতে ভুগছে এবং প্রতি বছর ছয় হাজার শিশু এর জিন নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।থ্যালাসেমিয়া বংশানুক্রমে পাওয়া রক্তের একটি রোগ। রক্তে যদি স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন কম থাকে তাহলে থ্যালসেমিয়া হয়। এর ফলে রক্তশুণ্যতাও দেখা দিতে পারে। সুস্থ মানুষের শরীরে সাধারণত রক্তের লোহিত কণিকা ১২০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। কিন্তু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের রক্তকণিকা ১২০ দিন হওয়ার অনেক আগেই নষ্ট হয়ে যায় এবং এ রোগের জিন বহনকারী ব্যক্তির শরীর রক্তকণিকা উপযুক্ত পরিমাণে তৈরি করতে অক্ষম।
থ্যালাসেমিয়ার মহামারি হতে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য প্রথম প্রয়োজন থ্যালাসেমিয়া বহনকারী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ। দুজন বাহক যদি একে অন্যকে বিয়ে না করে তাহলে কোনো শিশুরই থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নেয়া সম্ভব নয়। যদি কোনো কারণে দুজন বাহকের বিয়ে হয়েও যায়, তাহলে সন্তান গর্ভধারণের অনতিবিলম্বে গর্ভস্থিত সন্তানের পরীক্ষা করা সম্ভব এবং পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় যে ভ্রূণটি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, সেক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং বাবা-মায়ের ইচ্ছায় গর্ভপাত ঘটানো যায়।
থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা বাহক শনাক্তকরণের জন্য যে রক্ত পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, তাকে বলা হয় হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস। এ পরীক্ষার সুযোগ সব ল্যাবরেটরিতে নেই, তবে এর বিকল্প কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ধারণা করা সম্ভব কারও থ্যালাসেমিয়া মাইনর হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না। তাই বিয়ের আগে পাত্র এবং পাত্রী উভয়কে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা সেটা পরীক্ষা করাতে হবে। বিয়ের পর যদি জানা যায় যে, কারও থ্যালাসেমিয়া মাইনর রয়েছে তাহলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে, এতে করে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হলে কি করণীয় তা জানা যাবে।

