গরমে ঘামাচিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। স্বাভাবিক ঘাম তৈরি হওয়ার পর তা ঘর্মগ্রন্থি থেকে সরু নালীর মাধ্যমে ত্বকের উপরিভাগে অর্থাত্ শরীরের বাইরে চলে আসে। গরমের সময় অতিরিক্ত ঘামের চাপে ঘর্মগ্রন্থিটি কিংবা ঘাম শরীরের বাইরে বহনকারী সেই নালীটিই ফেটে যায় এবং ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। ত্বকের নিচে জমে থাকা এ ঘামই ঘামাচি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ঘামাচির বেশক’টি ধরন রয়েছে। ঘামাচি সৃষ্টির ফলে শরীর থেকে ঘাম ঠিকভাবে বেরিয়ে আসতে পারে না। সেই সঙ্গে শরীরে সৃষ্ট বাড়তি তাপ বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে গরম আরও বেশি অনুভূত হয়, মাথা ঘোরায়, মাথাব্যথা করে, বমিভাব হয়, জ্বরজ্বর লাগে। সেই সঙ্গে শরীর চুলকাতে থাকে, চুলকাতে চুলকাতে ঘামাচিতে ইনফেকশন হয়ে একজিমার আকার ধারণ করে। অনেক সময় ঘামাচি বড় হয়ে ফোড়ায় রূপান্তর হয়। উল্লেখ্য, ঘামাচি কখনও লোমের গোড়াকে আক্রান্ত করবে না।ঘামাচি হলে করণীয়
— ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকতে হবে। তাই প্রচলিত আছে, ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে গোসল করলে ঘামাচি সেরে যায়। এয়ার কন্ডিশনড্ রুম হলে ভালো হয়, তবে ফ্যানের বাতাসও উপকারী।
— দিনে কয়েকবার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে।
— বেবি ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
— ঢিলেঢালা সুতি জামা-কাপড় পরতে হবে। প্রয়োজনে খালি গায়েও থাকা
যেতে পারে।
— ক্যালামিলন লোশন ঝাঁকিয়ে ঘামাচি-আক্রান্ত শরীরে ঘণ্টাখানেক সময় ধরে লাগিয়ে রেখে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। এরকম ৩/৪ দিনের বেশি করা যাবে না।
— ঘামাচিতে লালা ভাব দেখা দিলে কিছুদিন কিউরল অয়েন্টমেন্ট দিনে ২ বার করে ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
— আর যদি ফোড়া হয়ে যায় তখন এন্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হবে।
2124

