নতুন গবেষনায় দেখা গেছে যারা মাংস-কাবাব কমিয়ে শাক-সবজী আর ফলমূলের দিকে ঝুঁকেছেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি কমে।
গবেষনায় প্রাপ্ত ফলাফলে পাওয়া যায় যারা শাক-সবজী আর ফলে অভ্যস্ত, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের হৃদরোগ কিংবা অন্য কোন জটিল রোগে মৃত্যুর হার কমে।
লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদলের মূখ্য প্রাবন্ধিক ডঃ মাইকেল অরলিশ ও তার সহকর্মীরা মিলে এই গবেষনাটি পরিচালনা করেন। যাতে আমেরিকা ও কানাডার সেভেন্থ-ডে এভেনটিস্ট চার্চের প্রায় ৭০,০০০ হাজারেরও অধিক লোকের উপর ২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত গবেষনাটি পরিচালিত হয়।
শুরুতে অংশগ্রহনকারীদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এবং দুগ্ধ, ডিম, মাছ ও মাংস খাওয়ার অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে তাদেরকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়।
এতে দেখা যায় প্রায় ৮% লোক যারা সম্পূর্ন নিরামিষভোজী আর ২৯% লোক যারা শাক-সবজী খাওয়ার পাশাপাশি দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য খান কিন্তু মাছ বা মাংস খান না। অন্যদলে আছেন প্রায় ১৫% লোক যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খান।
এরপর ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় ডাটাবেইজ থেকে ডাটা নিয়ে দেখা যায় যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খেয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে বছরান্তে প্রতি ১০০০ জনে গড়ে ৭ জন বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে মারা গেছেন। অন্যদিকে যারা নিয়মিত শাক-সবজী আর ফলমূলে অভ্যস্ত ছিলেন তাদের মধ্যে মারা গেছে প্রতি ১০০০ জনে ৫-৬ জন। তবে এই পরীক্ষার ফলাফলের একটি বিশেষ দিক হল এতে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মৃত্যু কম হয়েছে বলে দেখা গেছে।
এলিস লিস্টেস্টেইন বলেন যারা শাকাহারী তারা সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী হন।
তবে কি আমাদের নিরামিষভোজী হওয়া উচিত?
ডঃ রবার্ট ব্যারন যিনি JAMA Internal Medicine এর সম্পাদকীয় লেখেন এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, বলেন যে এর মানে এই নয় যে আমাদের সবাইকেই নিরামিষভোজী হতে হবে। তবে কেউ যদি তুলনামূলক নিরোগ থাকতে চান অথবা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চান, তাদের প্রতি পরামর্শ হল হ্যাঁ তা করতে পারেন অর্থাৎ কি না নিরামিষের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
আবার এর পরিবর্তে আপনার খাদ্যে সুগারের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারেন, পরিশোধিত শস্যদানা, স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাট নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। আরো যা পারেন তা হল, খাদ্যে দুগ্ধজাত খাদ্য, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি কমিয়ে শাক-সবজী আর ফলের পরিমান বাড়াতে।
পূর্বের এক গবেষনায় দেখা গেছে যারা উদ্ভিদজাত খাদ্যে অভ্যস্ত কিন্তু মাঝেমধ্যে চর্বিবিহীন মাংস খান তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে।
সূত্রঃ এন্ড্রিউ এম সীম্যান, রয়টার্স হেলথ।
সৌজন্যেঃ হেলথ প্রায়র ২১।

