home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মনোরোগবিদ না মনস্তত্ত্ববিদ!
৩১ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  psychologist difference  
  Viewed#:   119

আমি এখন কি করবো? প্রশ্নটা কাকে করবেন?  মনোরোগবিদ বা সাইকিয়েট্রিস্ট নাকি মনস্তত্ত্ববিদ বা সাইকোলজিস্টকে। দু মুঠো খাবার যোগাড় যেখানে নিত্য সংগ্রাম, সেখানে মন কিংবা মনোরোগ বিষয়টা বলতে গেলে একটি নির্মম কৌতুক। বহুকাল আগে থেকেই মনোরোগ ঘিরে নানান নেতিবাচক বাভ্রান্তিকর ধারণা ও কুসংস্কার সামাজিক ভাবে প্রচলিত রয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকে এখনো এ ধরনের কোনো রোগ আছে বলে মনে করেন না। তাদের কাছে অস্বাভাবিক কোনো আচরণ আলগায় ধরা, জিনের আছর, তাবিজ করা কিংবা তুক-তাক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আরো অবাক করা বিষয় হলো শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর, এমনকি চিকিৎসকদের মাঝেও মনোরোগবিদ এবং মনস্তত্ত্ববিদর কর্ম পরিধি সম্পর্কিত অজ্ঞতা লক্ষণীয়।

মনোরোগবিদ বা সাইকিয়েট্রিস্ট আসলে একজন চিকিৎসক যিনি এম বি বি এস পাশ করার পর এম ফিল, এম ডি বা এফ সি পি এস ডিগ্রি অর্জন করেন। আর এ ডিগ্রি অর্জনের ফলে তিনি মনোরোগ সনাক্তকরণ, চিকিৎসার মূল পদ্ধতি নির্ধারণ ও মনোরোগ গ্রস্ত ব্যক্তির আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে ফলপ্রসূ চিকিৎসা পদ্ধতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেন। প্রাত্যহিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের নানা ধাপে একজন সুস্থ স্বাভাবিক রোগহীন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি বা অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। হয়তো হাসি-কান্না, ক্রোধ, চিৎকার, বিমর্ষতা, আগ্রাসী আচরণ ইত্যাদি। কোনো ব্যক্তিকে ধরে বেধে নিয়ে আসলেই এটা প্রমাণিত হয় না যে, তিনি মানসিক রোগী। কিংবা আপাত সুস্থ প্রতিয়মান ব্যক্তির যে মানসিক রোগ নেই এমনটাও দাবি করা যাবে না। এক্ষেত্রে মনোরোগবিদ গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, ব্যক্তির ওই সমস্যাগুলোর মূলে কোনো মানসিক রোগ আছে কি না। তিনি বোঝার চেষ্টা করেন উক্ত চিকিৎসা প্রার্থীব্যক্তির ব্যক্তিগত, আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট। কেননা কাউকে মানসিক রোগী হিসেবে সাব্যস্ত করে কিংবা নিজেই রোগী সেজে সামাজিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রবণতা শুধুমাত্র দরিদ্র দেশগুলোতে নয়, সারা বিশ্বে একটি প্রচলিত রীতি।

এক্ষেত্রে মনোরোগ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যাদি জানার পাশাপাশি মনোরোগবিদরা খুব যৌক্তিক কারণেই মানব মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। মনস্তত্ত্ববিদ বা সাইকোলজিস্ট বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তত্ত্ব বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পর উক্ত ছাত্র বা ছাত্রী একজন সাইকোলজিস্ট হিসেবে পরিচিত হন। মনে রাখতে হবে সাইকোলজিস্ট বা মনস্তত্ত্ববিদরা কিন্তু চিকিৎসক নন। কাজেই কেউ যদি মনস্তত্ত্ববিদের কাছে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ চান, তবে তা ঐ ব্যক্তির অজ্ঞতারই প্রকাশ। মনস্তত্ত্ববিদরা মূলত একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের নানা ধাপে নানান প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশিত আচরণ বা অভিব্যক্তি কি হবে সেসম্পর্কে খুব স্বচ্ছ ধারণা রাখেন। দৈনন্দিন জীবনে তারা ব্যক্তির সক্ষমতা যেমন- রাগ দমন, আত্মবিশ্বাস, মনোভাব, চাপ সহ্য ক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে মেশার দক্ষতাসহ নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে সে অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা ধরণের সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা বা সাইকোথেরাপি প্রদান করেন।

সাধারণ মানুষের অনেকে মৌখিক পরামর্শের বা সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু সত্যি হচ্ছে সাইকোথেরাপি বা পরামর্শ কেন্দ্রিক এ চিকিৎসা পদ্ধতি পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত।উল্লেখ্য, মনোরোগগ্রস্ত ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণ সংশোধনের ক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে সাইকোলজিস্টরা মনোরোগসৃষ্ট অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখেন। জনের মধ্যে পার্থক্য মনোরোগের চিকিৎসার দুটো অংশ থাকে। ফারমাকোলজিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট।ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসাকেই ফারমাকোলজিক্যাল চিকিৎসা এবং নানা পরামর্শ ও আচরণ অনুশীলনের সুসমন্বিত পদ্ধতিকে সাইকোথেরাপি/সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা বলে। অনেকে আবার সাইকোথেরাপিকে ক্যন্সারের কেমোথেরাপির মতো ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা ভেবে ভুল করেন। মানসিক রোগের ওষুধ বিহীন সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসার অংশটুকু মূলত সাইকোলজিস্টের আওতাধীন বিষয়। এক্ষেত্রে সাইকিয়েট্রিস্ট সিদ্ধান্ত নেন কোন মানসিক রোগীর জন্য কোন সাইকোথেরাপি উপযুক্ত। সে অনুযায়ী সাইকোলজিস্ট তার কর্ম পরিচালনা করে থাকেন।

শেষ কথাকে কোন বিদ্যায় বিদ্বান বা কোন তত্ত্বে পারদর্শী তাতে সাধারণ মানুষের খুব একটা আগ্রহ নেই। তিনি বা তারা এখন কি করবেন? সে প্রশ্নের উত্তরটাই তাদের কাছে মুখ্য। মনোরোগবিদ বা মনস্তত্ত্ববিদ এর কর্ম পরিধির মাঝে সুস্পষ্ট সীমানা আছে। সে অনুযায়ী স্ব অবস্থানে থেকে যুগ পদ ভাবে রোগীর রোগ নিরাময় প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ। মনের রোগ, মনোরোগবিদ, মনস্তত্ত্ববিদ একই সুতোয় গাঁথা। তাদের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। আর তা হলো সুস্থ-স্বাভাবিক মন।


সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: অর্শ রোগের লক্ষণ এবং পরামর্শ
Previous Health Tips: প্রশ্ন: শিশু ঠিকমতো বড় বা লম্বা হচ্ছে কি না, তা বোঝার উপায় কী?

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')