বেশীর ভাগ ডায়েট প্ল্যান ৭ দিনের মধ্যেই ব্যর্থ হওয়ার ৫ টি কারণ
28 October,13
Viewed#: 527
আমরা একটি নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা অনুসরণ করার পরিকল্পনা করি একটি লক্ষ্য নিয়ে, বিশেষত আমরা যারা ওজন কমাতে চাই। আমাদের স্বপ্নের খাদ্যতালিকাটির বিভিন্ন অংশ কি হওয়া উচিত তা নিয়ে আমরা বিস্তর গবেষণা করি এবং কোন কোনও সময় এমনকি এটি আমাদের জন্য তৈরি করে দেয়ার জন্য ডায়েটিশিয়ানের পেছনে টাকা খরচ করি। আমাদের অনেকেই এ ডায়েট প্লান নিয়ম মত অনুসরণ করতে নানা কারণে ব্যর্থ হই। এখানে বেশ কিছু কারণ দেখানো হল যা আমাদের ডায়েট প্লান অনুসরণ না করতে পারার জন্য দায়ী।
১. বেশ কড়াকড়ি
এটা প্রমানিত আমরা যে খাদ্যতালিকা আমাদের জন্য নির্বাচন করি অনেক সময় তা অনুসরণ করা বেশ কঠিন হয়ে থাকে। এর মধ্যে আমাদের প্রিয় খাবারগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে না ফলে মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ, এবং মাথা ব্যাথা দেখা যেতে পারে। যে কোন খাদ্যতালিকার উদ্দেশ্য হল শক্তির সর্বত ব্যবহার, শক্তির বঞ্চনা নয়। এ সমস্যা নিরসনের জন্য এমন একটি ডায়েট বেছে নিন যা কোন কিছুকেই সম্পূর্ণ ভাবে পরিহার করে না। সম্পূর্ণ ভাবে ক্যালরি পরিহার করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। আপনার ডাক্তার এবং ডায়েটিশিয়ানের সাথে কথা বলুন এবং এমন একটি ডায়েট প্লান বেছে নিন যাতে সবকিছুই সুষম অনুপাতে থাকে।
২. ফলাফল পেতে বেশ পরিমাণে অধীর হয়ে পরেন
যখন আমরা একটি ডায়েট প্লান গ্রহণ করি, আমরা আশা করি যে এটি ম্যাজিকের মত কাজ করবে এবং অনতিবিলম্বে আমাদের দেখতে শুনতে চমৎকার করে তুলবে। যখন এমনটি ঘটে না তখন আমরা এটা ভাবতে শুরু করি যে, যে ডায়েট প্ল্যানটি আমরা বেছে নিয়েছি তা অকার্যকর এবং আমরা আমাদের পুরনো খাবার অভ্যাসে ফিরে যাই। এটি পরিহার করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল নিজেই নিজেকে এটা বলা, ওজন বৃদ্ধি পেতে যেমন সময় লেগেছে তেমনি এটি কমাতেও সময়ের প্রয়োজন হবে। ওজন কমা এবং তা একটি আকারে নিয়ে আসার জন্য সময় এবং সদিচ্ছার প্রয়োজন।
৩. লোভ সম্বরণ করতে পারেন না
ডায়েট প্ল্যানে প্রায় ক্ষেত্রেই এমন খাবার অন্তর্ভুক্ত হতে দেখা যায় যা আমরা খেতে পছন্দ করি না এবং এমন খাবার বাদ দেয়া হয় যার লোভ সম্বরণ করা আমাদের জন্য বেশ কঠিন এবং ফলে আমরা চিন্তা করতে শুরু করি যে, মাত্র এক টুকরাই তো কেক! এতে কি আর উনিশ বিশ হবে। এক টুকরা বা এক স্লাইস খাওয়া আপনার প্রচেষ্টার জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর দ্রুত সমাধান হল ডায়েট প্ল্যানে অবিচল থাকা এবং এটা বুঝতে পারা যে ক্ষতি হওয়ার জন্য এক পিস ই যথেষ্ট। আপনার প্রিয় খেলার মধ্যে ঐ সকল দানবদের সাথে লোভকে তুলনা করুন যা আপনার স্বাস্থ্যবান থাকার সকল প্রচেষ্টাকে ধুলিস্যাত করে দিতে এসেছে। মাসে কোন এক নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে নেয়া ফলপ্রদ হতে পারে, যেমন আপনি যদি জানেন এবং মানেন যে প্রতি মাসের ২য় শুক্রবারে পিজা এবং এক পিস চকলেট খাওয়া যাবে তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন।
৪. সামাজিক চাপ
যখন আমরা অফিস পার্টি বা ডিনারে যাই তখন ‘আমাদের ডায়েট প্ল্যানে নেই’ এমন খাবার পরিহার করা বেশ কঠিন হয়ে পরে। আমরা প্রায়ই এটা মনে করি যে খেতে আহবান জানানো খাবার ফিরিয়ে দেয়া এক রকমের অভদ্রতা। পার্টির খাবার মেন্যু বেশীর ভাগ সময়েই অনেক অস্বাস্থ্যকর খাবারে পরিপূর্ণ থাকে এবং সামাজিক চাপের কারণে তা এড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। এ ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য সম্মিলনী অনুষ্ঠানের ভোজসভা পরিহার করা পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে। একত্রে সাইক্লিং করা বা খেলা যেখানে পপকর্ন এবং কোমল পানীয় অনুমোদিত নয় সেখানে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। যদি আপনি potluck supper (যেখানে প্রত্যেক অতিথির আনিত খাবার সকলে ভাগ করে খায়) এ অংশ গ্রহণ করেন তবে আপনি সেখানে কিছু খেতে পারেন। একটা নাচের ক্লাসে অংশগ্রহণও মজার হতে পারে, এটি আপনাকে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবান রাখে।
৫. আবেগ
আমরা শিশুকাল থেকেই খাবারকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে ব্যবহার করতে তৈরি হয়ে উঠেছি। পারিবারিক অনুষ্ঠান গুলিতে কেক এবং অ্যালকোহল অন্তর্ভুক্ত থাকে। আমরা এমন খাবারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি যাতে ফ্যাট বেশী এবং কম পুষ্টিমান থাকে, এসকল খাবারের বেশীরভাগই মোটা করে তুলে। কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় বিরতির সময় অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাওয়া হতে পারে। এসকল সমস্যাগুলি emotional engineering techniques অবলম্বনের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে যাতে শেখানো হয় কিভাবে আপনি ঐ ধরণের খাবার না খাওয়ার জন্য আপনার আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। নিজেকে শান্ত রাখতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার জন্য ইয়োগা বা মেডিটেশন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
উপরোক্ত সমাধান গুলিতে রাতারাতি অভ্যস্ত হয়ে উঠা সম্ভব নয়। নিয়মিত প্রচেষ্টা এবং সদিচ্ছা আপনার খাদ্য তালিকাকে আপনার জন্য যথাযথ করে তুলতে পারে।