home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

বেশীর ভাগ ডায়েট প্ল্যান ৭ দিনের মধ্যেই ব্যর্থ হওয়ার ৫ টি কারণ
২৮ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  failure diets plan  
  Viewed#:   529

আমরা একটি নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা অনুসরণ করার পরিকল্পনা করি একটি লক্ষ্য নিয়ে, বিশেষত আমরা যারা ওজন কমাতে চাই। আমাদের স্বপ্নের খাদ্যতালিকাটির বিভিন্ন অংশ কি হওয়া উচিত তা নিয়ে আমরা বিস্তর গবেষণা করি এবং কোন কোনও সময় এমনকি এটি আমাদের জন্য তৈরি করে দেয়ার জন্য ডায়েটিশিয়ানের পেছনে টাকা খরচ করি। আমাদের অনেকেই এ ডায়েট প্লান নিয়ম মত অনুসরণ করতে নানা কারণে ব্যর্থ হই। এখানে বেশ কিছু কারণ দেখানো হল যা আমাদের ডায়েট প্লান অনুসরণ না করতে পারার জন্য দায়ী।

১. বেশ কড়াকড়ি
এটা প্রমানিত আমরা যে খাদ্যতালিকা আমাদের জন্য নির্বাচন করি অনেক সময় তা অনুসরণ করা বেশ কঠিন হয়ে থাকে। এর মধ্যে আমাদের প্রিয় খাবারগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে না ফলে মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ, এবং মাথা ব্যাথা দেখা যেতে পারে। যে কোন খাদ্যতালিকার উদ্দেশ্য হল শক্তির সর্বত ব্যবহার, শক্তির বঞ্চনা নয়। এ সমস্যা নিরসনের জন্য এমন একটি ডায়েট বেছে নিন যা কোন কিছুকেই সম্পূর্ণ ভাবে পরিহার করে না। সম্পূর্ণ ভাবে ক্যালরি পরিহার করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। আপনার ডাক্তার এবং ডায়েটিশিয়ানের সাথে কথা বলুন এবং এমন একটি ডায়েট প্লান বেছে নিন যাতে সবকিছুই সুষম অনুপাতে থাকে।
 
২. ফলাফল পেতে বেশ পরিমাণে অধীর হয়ে পরেন
যখন আমরা একটি ডায়েট প্লান গ্রহণ করি, আমরা আশা করি যে এটি ম্যাজিকের মত কাজ করবে এবং অনতিবিলম্বে আমাদের দেখতে শুনতে চমৎকার করে তুলবে। যখন এমনটি ঘটে না তখন আমরা এটা ভাবতে শুরু করি যে, যে ডায়েট প্ল্যানটি আমরা বেছে নিয়েছি তা অকার্যকর এবং আমরা আমাদের পুরনো খাবার অভ্যাসে ফিরে যাই। এটি পরিহার করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল নিজেই নিজেকে এটা বলা, ওজন বৃদ্ধি পেতে যেমন সময় লেগেছে তেমনি এটি কমাতেও সময়ের প্রয়োজন হবে। ওজন কমা এবং তা একটি আকারে নিয়ে আসার জন্য সময় এবং সদিচ্ছার প্রয়োজন।
 
৩. লোভ সম্বরণ করতে পারেন না
ডায়েট প্ল্যানে প্রায় ক্ষেত্রেই এমন খাবার অন্তর্ভুক্ত হতে দেখা যায় যা আমরা খেতে পছন্দ করি না এবং এমন খাবার বাদ দেয়া হয় যার লোভ সম্বরণ করা আমাদের জন্য বেশ কঠিন এবং ফলে আমরা চিন্তা করতে শুরু করি যে, মাত্র এক টুকরাই তো কেক! এতে কি আর উনিশ বিশ হবে। এক টুকরা বা এক স্লাইস খাওয়া আপনার প্রচেষ্টার জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর দ্রুত সমাধান হল ডায়েট প্ল্যানে অবিচল থাকা এবং এটা বুঝতে পারা যে ক্ষতি হওয়ার জন্য এক পিস ই যথেষ্ট। আপনার প্রিয় খেলার মধ্যে ঐ সকল দানবদের সাথে লোভকে তুলনা করুন যা আপনার স্বাস্থ্যবান থাকার সকল প্রচেষ্টাকে ধুলিস্যাত করে দিতে এসেছে। মাসে কোন এক নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে নেয়া ফলপ্রদ হতে পারে, যেমন আপনি যদি জানেন এবং মানেন যে প্রতি মাসের ২য় শুক্রবারে পিজা এবং এক পিস চকলেট খাওয়া যাবে তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন।
 
৪. সামাজিক চাপ
যখন আমরা অফিস পার্টি বা ডিনারে যাই তখন ‘আমাদের ডায়েট প্ল্যানে নেই’ এমন খাবার পরিহার করা বেশ কঠিন হয়ে পরে। আমরা প্রায়ই এটা মনে করি যে খেতে আহবান জানানো খাবার ফিরিয়ে দেয়া এক রকমের অভদ্রতা। পার্টির খাবার মেন্যু বেশীর ভাগ সময়েই অনেক অস্বাস্থ্যকর খাবারে পরিপূর্ণ থাকে এবং সামাজিক চাপের কারণে তা এড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। এ ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য সম্মিলনী অনুষ্ঠানের ভোজসভা পরিহার করা পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে। একত্রে সাইক্লিং করা বা খেলা যেখানে পপকর্ন এবং কোমল পানীয় অনুমোদিত নয় সেখানে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। যদি আপনি potluck supper (যেখানে প্রত্যেক অতিথির আনিত খাবার সকলে ভাগ করে খায়) এ অংশ গ্রহণ করেন তবে আপনি সেখানে কিছু খেতে পারেন। একটা নাচের ক্লাসে অংশগ্রহণও মজার হতে পারে, এটি আপনাকে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবান রাখে।
 
৫. আবেগ
আমরা শিশুকাল থেকেই খাবারকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে ব্যবহার করতে তৈরি হয়ে উঠেছি। পারিবারিক অনুষ্ঠান গুলিতে কেক এবং অ্যালকোহল অন্তর্ভুক্ত থাকে। আমরা এমন খাবারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি যাতে ফ্যাট বেশী এবং কম পুষ্টিমান থাকে, এসকল খাবারের বেশীরভাগই মোটা করে তুলে। কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় বিরতির সময় অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাওয়া হতে পারে। এসকল সমস্যাগুলি emotional engineering techniques অবলম্বনের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে যাতে শেখানো হয় কিভাবে আপনি ঐ ধরণের খাবার না খাওয়ার জন্য আপনার আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। নিজেকে শান্ত রাখতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার জন্য ইয়োগা বা মেডিটেশন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
 

উপরোক্ত সমাধান গুলিতে রাতারাতি অভ্যস্ত হয়ে উঠা সম্ভব নয়। নিয়মিত প্রচেষ্টা এবং সদিচ্ছা আপনার খাদ্য তালিকাকে আপনার জন্য যথাযথ করে তুলতে পারে।
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শুকনো ফাটা পা, কিভাবে তা সারাবেন
Previous Health Tips: দ্রুতই কমবে পেটের মেদ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')