চা বাঙালির জীবনের এখন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুরুতে চীন থেকে যখন সারা বিশ্বে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে তখন তা নিছকই এক বিলাস বা শখ পূরণের জন্য সুস্বাদু পানীয় হিসেবে ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু কালে কালে চা যতটা সুলভ হতে শুরু করল, মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ধীরে রীতিমত অপরিহার্য একটি দ্রব্য হিসেবে এর প্রবেশ ঘটতে লাগলো। আর এখন তো আয়ুর্বেদিক দ্রব্য হিসেবে চা এর কত রকম গুণাগুণের কথাও আমরা জানি। তাই স্বাদ আর গুণ- সব মিলিয়ে চা যেন এক অনন্য পানীয়।
যারা নিয়মিত চা পান করেন তাদের অনেকেই ঘুমের ঘোর কাটাতে সকালে উঠেই চুমুক দেন এক কাপ চায়ে। এরপরে দিনের শুরুতে সারা বিশ্বের খবরা খবর জানার জন্য সংবাদপত্রটা হাতে নেয়ার সময় যদি হাতে এক কাপ গরম গরম চা পাওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই! অফিসে গিয়ে কাজের চাপে একঘেয়ে লাগছে, কিংবা মাথা ধরেছে? এই সমস্যারও সহজ সমাধান চা। আবার দুপুরে খাওয়ার পরে আবারো কাজ শুরু করার আগে আলসেমি ভাবটা কাটিয়ে শরীরটাকে একটু ফুরফুরে করে নিতেও সেই এক কাপ চা, বিকেলের নাশতা কিংবা বিভিন্ন তেলে-ভাজার সাথেও চা! সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে হাত মুখ ধুরে ফ্রেশ হয়ে একটু চটপটে হয়ে নিতেও আবার সেই চা!
এভাবে অনেকেই দিনের মধ্যে বেশ কয়েক কাপ চা খেয়ে ফেলেন হিসেব ছাড়াই।
যদিও চা খাওয়ার সময় এত বেশি চা খাওয়ার ফলাফল সম্পর্কে কেউই চিন্তা করেন না, তাও স্বাস্থ্যের খাতিরে কিছুটা ভাবতে হয় বৈ কি! তবে বিভিন্ন গবেষণা বলছে যে, বেশি চা পান শরীরের জন্য একেবারেই খারাপ নয়। ব্যস চিন্তা ছেড়ে দিলেন তো এটুকু শুনেই? পুরোটা শুনে নিন আগে!
চায়ের উপরে বিভিন্ন গবেষণা এটাও বলছে যে, বেশি চা পানে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলেও বারবার চা পান করতে গিয়ে আপনি যে মাত্রায় চিনি গ্রহণ করছেন সেটা কিন্তু বেশ ঝুঁকি পূর্ণ হতে পারে! তাই যাদের অভ্যাস আছে সারাদিনে বেশ কয়েকবার চা পান করার, তাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে চা-তে চিনির পরিমাণটা যেন থাকে একেবারেই কম।
চা শরীরে জলের অভাবে পূরণ করে। আমাদের দেশে সাধারণত দুধ-চিনি মেশানো সুস্বাদু দুধ চায়েরই প্রচলন বেশি। এছাড়া লাল চা বা র’ চা-ও এখানে বেশ প্রচলিত এবং শরীরের জন্যেও উপকারী। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে সবুজ চা বা গ্রিন টি শরীরের জন্য বেশ উপকারী। আবার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী আয়ুর্বেদের কাজ করে বিভিন্ন ধরনের চা, যেমন- সাদা চা, কালো চা, উলং চা, হার্বাল চা ইত্যাদিও বেশ জনপ্রিয়। কিছু চা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে।
তাই সবদিক বিবেচনা করে দিনে আট কাপ পর্যন্ত চা পান করা যেতেই পারে। কিন্তু এতবার চা পান করলে কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। যারা গর্ভবতী নারী, কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রেও চা খাওয়ার সময়টা নির্দিষ্ট হওয়া উচিত। যাদের শরীরে আয়রনের পরিমাণ কম তারা চা পান করুন সকাল বা দুপুরের ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পরে। আর সবাইকেই খেয়াল রাখতে হবে যে সব রোগের সূচনাকারী ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতাকে এড়িয়ে যেতে চাইলে চায়ে চিনির পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখুন এবং পরিমাণটাও যেন অবশ্যই কম হয় সেদিকেও নজর দিন।
সূত্র - natunbarta.com

