ঈদ মানেই এই ব্যস্ত ঢাকা শহর থেকে অনেকের কাছে সবুজ-শ্যামল গ্রামে ফেরার আনন্দ। কিন্তু অনেকেরই এই আনন্দ মাটি হয়ে যায় যাত্রাপথে অসুস্থতার কারণে।
বাস, ট্রেন বা লঞ্চ—কারও কারও যেকোনো ধরনের যানবাহনে উঠলেই বমি পায়, মাথা ঘোরে, অসুস্থ বোধ করেন। এই গরম ও ভিড়ে গাদাগাদি অবস্থায় অনেকের বাড়ি ফিরতে প্রায় দফারফা হয়। যাত্রাপথে খারাপ লাগার এই উপসর্গকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় মোশন সিকনেস বা চলন্ত অবস্থার অসুস্থতা। যাঁদের এই মোশন সিকনেস আছে, তাঁরাই কেবল বোঝেন গাড়ি বা অন্য যানবাহনে চড়ার অনুভূতি তাঁদের কাছে কতটা ভয়ংকর।
আমাদের অন্তঃকর্ণ বা ল্যাবিরিনথের কাজ হলো দেহের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। চলন্ত যানবাহনে থাকা অবস্থায় এই অন্তঃকর্ণ অবিরত মস্তিষ্কে ভারসাম্যহীনতার বার্তা পাঠাতে থাকে। এরই প্রতিক্রিয়ায় বমি ভাব বা বমি হয়, মাথা ঘোরে। কারও ঘাম হতে থাকে, খুব ক্লান্ত লাগে, কারও মাথা হালকা বোধ হয়। মোশন সিকনেস সবার হয় না, কারও কারও হয়।
ভ্রমণে স্বাস্থ্য সতর্কতা
১. যাঁদের সিকনেস মোশন হয়, তাঁরা যাত্রা শুরুর আগে তেল-মসলাযুক্ত, চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার, চকলেট ও অতিরিক্ত পানীয় গ্রহণ করবেন না। আবার একেবারে খালি পেটেও রওনা দেবেন না। তীব্র গন্ধযুক্ত খাদ্য ও পানীয়ও এড়িয়ে চলুন।
২. এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে দুলুনির তীব্রতা একটু কম এবং খোলা হাওয়া-বাতাস চলাচল হয়।
৩. বাহন যেদিকে চলছে, তার বিপরীত দিকে মুখ করে বসলে ভারসাম্যহীনতার বোধ বেশি হয়।
৪. বইপত্র পড়া থেকে বিরত থাকুন।
৫. অন্যের মোশন সিকনেস হতে দেখলে বা শুনলে এর প্রকোপ বাড়ে। তাই এ নিয়ে আলোচনা না করে একটু দূরে চুপচাপ থাকুন।
৬. চুইংগাম বা আদার টুকরা চিবুলে অন্তঃকর্ণের ভারসাম্য রক্ষা হয় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
৭. সিনারিজিন বা মেক্লিজিন জাতীয় ওষুধ প্রয়োজনে আগেই খেয়ে নিন বা সঙ্গে রাখুন।
সূত্র: সিডিসি।
সুত্র - প্রথম আলো

