home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

গম ও যবের আটার যত গুণ
২৮ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  The quality of wheat flour  
  Viewed#:   373

বাজারে অনেক ধরনের আটা পাওয়া যায়। ময়দার আটা। কিংবা গম ও ময়দা মিশ্রিত আটা। কিন্তু গমের আটায় রয়েছে শারীরিক সুস্থতার জন্য অনেক পুষ্টিগুণ।

আটার রুটির যত গুণ: আটার রুটিতে সহজে হজম হয়, যাতে মলরোধ করে শরীরের বল বৃদ্ধি করে, শুক্র বৃদ্ধি করে, কফ, বাত, পিত্তের নানান ত্রুটি প্রতিহত করে।

আটা তৈরি করে যে গম, তার চারা গাছেরও আছে অনেক গুণ।

১| গমের বীজ বপন করে এক বিঘৎ মাপের যে চারা গাছ বেরোয় তার রস খেলেও পিত্তের কারণে যে সব রোগ হয় তা সেরে যায়। অল্মপিত্ত, রক্তপিত্ত, দাহ, বাতরক্ত, রক্তক্ষয়, শুক্রক্ষয়, গর্ভের সমস্যা, মূত্রের যাবতীয় সমস্যা দূর করে। এছাড়া কোষ্টকাঠিন্য, রক্ত বমন, পিত্তজ্বর, পুরোনো জ্বর প্রভৃতি অসুখে বা অসুবিধেতেও এই রস খেলে উপকার পাওয়া যায়।

২| দেড় টেবিল চামচ আস্ত গম এক গ্লাস জলে এক রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালবেলা মিহি করে পিষে কাপড় দিয়ে ছেঁকে চিনি মিশিয়ে সাত দিন ধরে এইভাবে ও এই পরিমাণে জল পান করলে প্রমেহ (যৌনব্যাধি) সেরে যায়।

৩| অল্প পরিমাণ গমের আটায় চিনি ও দুধ মিশিয়ে খেলে নাক থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

৪| গমের আটার পুলটিস বাঁধলে ফোঁড়া পেকে যায়।

 যব ও গমের ছাতুতে অনেক পুষ্টি

প্রাচীনকালে থেকেই যবের ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন মুনি ঋষিদের মুখ্য আহার যবই ছিল এই রকমই প্রচলিত ধারণা। বেদে যজ্ঞের আহূতিরূপে যব দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে।

আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে, যবের মন্ত সহজে হজম হয়, মলরোধ করে, শূল নাশ করে ত্রিদোষ (কফ, বাত, পিত্ত) নাশ করে।

যবের রুটি: সহজে হজম হয়, শরীরের বল ও শুক্র বৃদ্ধি করে, কফ নাশ করে, বায়ুওমল বৃদ্ধি করে।

যবের ছাতু: সহজে হজম হয়, শরীর ঠাণ্ডা করে, বল ও পুষ্টি বৃদ্ধি করে, শুক্র বৃদ্ধি করে। শ্রান্তি, দেহের ঘাম, শরীরের দাহ (জ্বালা) কফ ও পিত্ত নাশ করে। খিদে বাড়িয়ে দেয় সারক (মল ও মূত্র নি:সারণ করে) বায়ু  নি:সারণ করে।

খাওয়ার নিয়ম: জলের সঙ্গে পাতলা করে গুলে খেতে হবে। শক্ত করে মেখে দলা পাকিয়ে খেলে অর্জীন হয়। সাধারণত উত্তর প্রদেশে গ্রীস্মকালে শরীর ঠাণ্ডা রাখবার জন্যে তৃঞ্চা দূর করাবার জন্যে ছাতু খাওয়া হয়। অনেকে নুনের বদলে গুড় দিয়ে মিষ্টি করেও ছাতু গুলে খান। যবের বার্লিতেও অনেক গুণ: এতে চালের চেয়ে তাড়াতাড়ি হজম হয়, রোগীর পথ্য হিসাবে এর ব্যবহার। তবে যব শুধু পথ্য হিসেবেই নয় খাদ্য হিসেবেও এর অনেক গুণ আছে।

হাকিমি মতে বা ইউনানি মতে: যব ঠাণ্ডা আর রুক্ষ। যব স্বাদহীন, মলবন্ধ কারক, রক্তপিত্ত কমিয়ে দেয়। নাড়ির গতি ধীর করে, তৃঞ্চা শান্ত করে। পিত্তবৃদ্ধি, কাশি, মাথাব্যথা, হার্টেও অসুখ, দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, জ্বর রোগ যব ব্যবহার করা হয়। বৈজ্ঞানিক মতে: যব অশক্ত আর অসুস্থ মানুষের আর্দশ পথ্য।

সুস্থ থাকতে যবের ব্যবহার

১। ডায়বেটিস রোগীদের পক্ষে যবের আটা বেশি উপকারী। যবের আটা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় না।

২। যারা মোটা হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা যাদি চাল গমের বদলে যবের আটার রুটি খান মেদবৃদ্ধি কমবে। ওই রুটি খেতে হবে টক দইয়ের সঙ্গে কিংবা মেথির শাক বা নটেশাকের তরকারি দিয়ে। সঙ্গে মুগের ডাল ও খেতে পারেন।

৩। যব খেলে প্রস্রাব বেশি হয়- অতএব যারা মূত্রকৃচ্ছ্রতায় ভুগছেন তাদের পক্ষে ভাল।

৪। যবের আটা শুকনো তাওয়ায় সেঁকে ঠাণ্ডা জলে গুলে যদি অল্প ঘি মিশিয়ে (বেশি পাতলা বা ঘন হবে না) খাওয়া যায় তবে অনেক উপকার হয় এবং তাতে তৃঞ্চা, দাহ ও রক্তপিত্ত দূর হয়।

৫। যব আর মুগের ডালের জুস তৈরী করে খেলে আন্ত্রিক উগ্রতা শান্ত হয় এবং পেটের অসুখে (অতিসার) উপকার হয়।

৬। যবের আটা আর চিনি সমান সমান পরিমাণে মিশিয়ে খেলে বার বার গর্ভপাত হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

৭। যব,তিল আর চিনি সমান পরিমাণে নিয়ে গুড়ো করে মধু মিশিয়ে খেলে ও গর্ভপাতের ভয় থাকে না।

৮। অল্প পরিমাণে যবক্ষার খেলে শূল,গুম্ব,লিভারের অসুখ,প্লীহার অসুখ,আর অজীর্ণ দূর হয়।

৯। খুব অল্প যবক্ষার ঘি মিশিয়ে চাটলে এবং তার পাঁচ মিনিট পরে ঠান্ডা জল খেলে বা ঘোল খেলে মূত্রদাহ(প্রস্রাব করতে গেলে জ্বালা করা) মূত্রকৃচ্ছ্র (প্রস্রাব কম হওয়া) এবং পাথর রোধের (কিডনি বা গলব্লাডারে পাথর) উপকার হয়।

১০। তাওয়ায় সেঁকে যবের আটা, ষষ্ঠিমধু বেটে নিয়ে জলে ধুয়ে নেওয়া ঘি মিশিয়ে প্রলেপ দিলে রক্তবাত (ত্বকের বা চর্মেও জ্বালা বা প্রদাহ রোগ) সারে।

১১। যব পুড়িয়ে তিল তেলে ফুটিয়ে নিয়ে প্রলেপ দিলে অগ্নিদগ্ধ ব্রণ (আগুনে পোড়া ঘা) সারে। যবের ছাতু শরীরে শক্তি জোগাতে প্রায় অদ্বিতীয় বলা যায়। প্রায় শুধু ছাতু খেয়েই শ্রমিকেরা সারাদিন ধরে দুরূহ পরিশ্রম করেন। কাজে কাজেই যবের শুধু পথ্য হিসেবেই নয়‘আহার’ হিসেবেও সমাদূত হওয়া উচিত।


সুত্র - poriborton.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ক্যান্সার : পরিহার করুন ৫টি বিষয়
Previous Health Tips: গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি: সতর্কতা জরুরি

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')