যদি আপনার শিশু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে আপনার সবার আগে উচিৎ এই সকল শিশুদের জন্য কাজ করছে এমন সাপোর্ট গ্রুপে যোগদান করা। সাপোর্ট গ্রুপগুলিতে প্রচুর তথ্য থাকে জা এই সকল শিশুদের বেরে উঠার জন্য অনেক উপকারে আসে। তাছাড়া এই সকল গ্রুপে যোগদানের ফলে গ্রুপের অন্যান্য বাবামায়েদের সাথে কথা বলে নানা রকম অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সুযোগ পাওয়া যায়।
নিম্নে এই সকল গ্রুপে কেন যোগদান করবেন তার কয়েকটি কারন তুলে ধরা হল -
১) স্কুল, শিক্ষক এবং শিক্ষা নিয়ে আলোচনা
সাধারনত একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষদের নিয়ে এক একটি সাপোর্ট গ্রুপ তৈরি করা উচিৎ। এতে অনেক রকম সুবিধা ভোগ করা যায়। একি এলাকার মানুষ হলে সাধারণত ঐ এলাকার শিশুরা একই স্কুলে যাতায়াত করে। এতে বাবা মাদের শিশুদের শিক্ষা, স্কুল এবং শিক্ষকদের বিষয়ে আলোচনা করতে সুবিধা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়।
২) আপনি নিজে কি জানেন?
গ্রুপের মানুষদের সাথে আলাপ আলোচনা করে আপনি আরও অনেক রকম তথ্য জানতে পারবেন। কোথায় ভালো ডাক্তারের দেখা মিল্বে, কোথায় ভালো ডেন্টিস্ট আছেন কিংবা কোথায় গেলে আপনার শিশুকে একটা ভালো হেয়ারকাট দিতে পারবেন - এমন হাজারো বিষয় প্রতিনিয়ত জানার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া বাবা মায়েদের সাথে আলোচনা করে জানতে পারবেন - শিশুদের নানা রকম ওষুধ এবং কোন বিশেষ ডায়েট সম্বন্ধে।
৩) কিভাবে অন্যরা সাহায্য পাচ্ছেন?
অনেক রকম সাপোর্ট গ্রুপ সমাজে কাজ করে। কিন্তু কোন গ্রুপের পক্ষে সকল শিশু বা বাবামায়েদের জন্য কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই অন্য বাবা মায়েদের সাথে আলাপ করুন। জেনে নিন সাপোর্ট গ্রুপগুলিতে জয়েন করতে কিভাবে শুরু করতে হবে এবং কোথায় আবেদন করতে হবে।
৪) একতাই বল
অনেক সময় আপনার শিশুর জন্য বিশেষভাবে কোন স্কুল বা প্রশিক্ষন কেন্দ্রের নিয়ম পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। এই ক্ষেত্রে সাপোর্ট গ্রুপ গুলির ভুমিকা অনেক। যখন অনেক পরিবার বা একই সাপোর্ট গ্রুপের অনেক সদস্য একই সাথে কোন নিয়ম পরিবর্তনের জন্য আওয়াজ তুলবেন তখন অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে বিশেষ শিশুদের সুবিধার্থে নিয়মে পরিবর্তন করতে হবে।
৫) যোগাযোগ রাখুন অন্য সাপোর্ট গ্রুপগুলিতে
শুধুমাত্র নিজের কমিউনিটিতে কাজ করলেই চলবে না।জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বাড়াতে অন্য গ্রুপগুলিতেও যোগাযোগ রাখুন। অন্য গ্রুপগুলি কিভাবে একসাথে কাজ করছে এবং সাফল্য লাভ করছে সে সম্বন্ধে সবসময় হালনাগাদ করুন।
৬) রয়েছে শিশুদের মাঝে বন্ধুত্বের সুযোগ
সাপোর্ট গ্রুপে থাকলে আপনি এমন অনেক বাবা মায়েদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন যাদের শিশুরা হয়ত আপনার শিশুর মত একই চাহিদা সম্পন্ন। এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার শিশু এবং অন্য শিশুদের মাঝে বন্ধুত্ব গরে তোলার একটি সুযোগ পাবেন। একই চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে বন্ধুত্ব করানো, তাদের নিয়ে পার্কে খেলতে যাওয়া এরকম অনেক সুবিধাই আপনি আপনার শিশুকে দিতে পারবেন।
৭) শেয়ার করুন অনলাইন জগতে
এখন অনেক বাবা মা - ই বিভিন্ন সাপোর্ট গ্রুপের খোঁজ পাচ্ছেন অনলাইনে বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে। তাই সবসময় ইন্টারনেটে এরকম ব্লগ এবং সাইটে জয়েন করুন এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা জেনে নিন। একই সাথে আপনার নিজের অভিজ্ঞতাও নিয়মিত অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।
৮) হবে নিজের বন্ধু
আপনার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর জন্য কাজ করতে করতে আপনি খুঁজে পাবেন আপনার মতই এমন অনেক বাবা মা। অনেক সময় যোগাযোগ রাখতে রাখতে এই সকম বাবা মা হয়ে উঠতে আপনার কাছের বন্ধু।
৯) ক্ষতি নেই অন্যকে জানাতে
সাপোর্ট গ্রুপে থেকে যাই শিখবেন কখনোই নিজের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে অন্যকে জানাতে পিছপা হবেন না। আপনার শেয়ার করা কোন একটি কথা হয়ত অন্য একজনের অনেক উপকারে আস্তে পারে।
সুত্র - friendshipcircle.org

