home top banner

Health Tip

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া
12 September,13
  Viewed#:   312

অর্ধেকেরও বেশী গর্ভবতী মহিলারা বিশেষকরে তাদের গর্ভাবস্থার ২য় এবং ৩য় পর্বে মারাত্মক বুক জ্বালা পোড়ার উপসর্গের অভিযোগ করেন। বুক জ্বালা পোড়া, যাকে acid indigestion বা অজীর্ণতা ও বলা হয়, গলনালিতে জ্বলুনি বা পোড়ানর মত অনুভুতি বোধ হয় একারণে যে পাকস্থলীতে অবস্থিত বস্তু সমূহ বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের ফলে গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়া হতে পারে, যার কারণে পৌষ্টিক নালীর পেশীতে খাবারের বিভিন্নতার কারণে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রেগন্যান্সি হরমোনের কারণে lower esophageal sphincter (পাকস্থলী এবং গলনালির মধ্যে পেশীর তৈরি ভাল্ভ) শিথিল হয়ে যায়, ফলে পাকস্থলীর এসিডকে গলনালির দিকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জরায়ু তলপেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, ফলে পাকস্থলীর এসিড উপরের দিকে চাপ দেয়। যদিও এটা খুবই দুর্লভ, পিত্তপাথরির (gallstones) কারণেও গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়া হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়ার প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
আপনার শিশুকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়া কমানোর জন্য, নীচের নির্দেশনা গুলি অনুসরণ করা উচিতঃ
দৈনিক তিন বারে বেশী করে না খেয়ে অল্প করে বার বার খান।
ধীরে খান।
ভাজা, মশলার আধিক্য যুক্ত, বা ভারি খাবার, বা এমন খাবার যা lower esophageal sphincter (পাকস্থলী এবং গলনালির মধ্যে পেশীর তৈরি ভাল্ভ ) এর শিথিলের কারণ এবং বুক জ্বালা পোড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয়, তা বর্জন করুন।
খাওয়ার সময় কম পান করুন। খাবার সময় বেশী পরিমাণে পান করলে এসিডের চাপ (acid reflux) বৃদ্ধির ঝুঁকির সৃষ্টি হয় এবং বুক জ্বালা পোড়া করে।
খাওয়ার পরে সরাসরি শুয়ে পরবেন না।
আপনার বিছানার পায়ের দিকের চেয়ে মাথার দিক উঁচু করে রাখুন। অথবা কাঁধের নীচে বালিশ দিন যাতে পাকস্থলীর এসিড বুকের দিকে উঠে আসতে বাধাগ্রস্থ হয়।
আপনার ডাক্তারকে এটার পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঔষধ, যেমন Tums বা Maalox এর জন্য বলতে পারেন যেগুলি সাধারণত গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা নিরাপদ। আপনি তরল বুক জ্বালা পোড়া নিরাময়কারী ব্যবহার করতে পারেন যা বুক জ্বালা পোড়ায় আরও বেশী কার্যকরী কারণ, এগুলি গলনালিতে আবরণের সৃষ্টি করে।
ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। আঁটসাঁট পোশাক আপনার পাকস্থলী এবং তলপেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য পরিহার করুন।

এরপরেও যদি আপনার বুক জ্বালা পোড়া থেকে যায় তবে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিনি হয়তো এমন ধরনের ঔষধ দিবেন যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া নিরাপদ হবে। বুক জ্বালা পোড়া সাধারণত শিশু জন্মের পরপরই ভাল হয়ে যায়।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শিশুর মুখে প্রথম ভাত
Previous Health Tips: ঘর থাক পোকামাকড়হীন পরিস্কার

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')