অর্ধেকেরও বেশী গর্ভবতী মহিলারা বিশেষকরে তাদের গর্ভাবস্থার ২য় এবং ৩য় পর্বে মারাত্মক বুক জ্বালা পোড়ার উপসর্গের অভিযোগ করেন। বুক জ্বালা পোড়া, যাকে acid indigestion বা অজীর্ণতা ও বলা হয়, গলনালিতে জ্বলুনি বা পোড়ানর মত অনুভুতি বোধ হয় একারণে যে পাকস্থলীতে অবস্থিত বস্তু সমূহ বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের ফলে গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়া হতে পারে, যার কারণে পৌষ্টিক নালীর পেশীতে খাবারের বিভিন্নতার কারণে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রেগন্যান্সি হরমোনের কারণে lower esophageal sphincter (পাকস্থলী এবং গলনালির মধ্যে পেশীর তৈরি ভাল্ভ) শিথিল হয়ে যায়, ফলে পাকস্থলীর এসিডকে গলনালির দিকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জরায়ু তলপেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, ফলে পাকস্থলীর এসিড উপরের দিকে চাপ দেয়। যদিও এটা খুবই দুর্লভ, পিত্তপাথরির (gallstones) কারণেও গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়া হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়ার প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
আপনার শিশুকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা পোড়া কমানোর জন্য, নীচের নির্দেশনা গুলি অনুসরণ করা উচিতঃ
দৈনিক তিন বারে বেশী করে না খেয়ে অল্প করে বার বার খান।
ধীরে খান।
ভাজা, মশলার আধিক্য যুক্ত, বা ভারি খাবার, বা এমন খাবার যা lower esophageal sphincter (পাকস্থলী এবং গলনালির মধ্যে পেশীর তৈরি ভাল্ভ ) এর শিথিলের কারণ এবং বুক জ্বালা পোড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয়, তা বর্জন করুন।
খাওয়ার সময় কম পান করুন। খাবার সময় বেশী পরিমাণে পান করলে এসিডের চাপ (acid reflux) বৃদ্ধির ঝুঁকির সৃষ্টি হয় এবং বুক জ্বালা পোড়া করে।
খাওয়ার পরে সরাসরি শুয়ে পরবেন না।
আপনার বিছানার পায়ের দিকের চেয়ে মাথার দিক উঁচু করে রাখুন। অথবা কাঁধের নীচে বালিশ দিন যাতে পাকস্থলীর এসিড বুকের দিকে উঠে আসতে বাধাগ্রস্থ হয়।
আপনার ডাক্তারকে এটার পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঔষধ, যেমন Tums বা Maalox এর জন্য বলতে পারেন যেগুলি সাধারণত গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা নিরাপদ। আপনি তরল বুক জ্বালা পোড়া নিরাময়কারী ব্যবহার করতে পারেন যা বুক জ্বালা পোড়ায় আরও বেশী কার্যকরী কারণ, এগুলি গলনালিতে আবরণের সৃষ্টি করে।
ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। আঁটসাঁট পোশাক আপনার পাকস্থলী এবং তলপেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য পরিহার করুন।
এরপরেও যদি আপনার বুক জ্বালা পোড়া থেকে যায় তবে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিনি হয়তো এমন ধরনের ঔষধ দিবেন যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া নিরাপদ হবে। বুক জ্বালা পোড়া সাধারণত শিশু জন্মের পরপরই ভাল হয়ে যায়।

