শরতেরমেঘ যতই লুকোচুরি খেলুক না কেন ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টা অসুখ-বিসুখ কিন্তুঠিকই জানান দিয়ে আসে। বিশেষ করে শিশুদের বেলায়।তাইশরতেও শিশুদের জন্যচাই স্নেহমাখা সতর্কতার সঙ্গে বিশেষ যতœআত্তি। আরএ সময় শিশুর পরিচর্যাসম্পর্কে ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ মোশারফ হোসেন দিয়েছেনবেশ কিছু পরামর্শ।
ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টায় একটু অসতর্কতায় শিশুরাআক্রান্ত হতে পারে নানা রকম অসুখে। শিশুরা যত রকম অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়তার মধ্যে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, হালকা জ্বর অন্যতম।শিশুরা যেহেতু নিজেরা নিজেদের যত্ন নিতে পারে না, মা-বাবার সতর্কতাই পারেশিশুকে এসব রোগবালাই থেকে দূরে রাখতে।
গরম থাকলেও হুট হাট করে আবারবৃষ্টি চলে আসায় শিশুদের ঠাণ্ডা অনুভুতি হয়। বিশেষ করে রাতে শিশুদের কখনওহালকা ঠাণ্ডা, কখনও আবার গরম অনুভূত হয়। ফলে শিশুরা বেশির ভাগই ভাইরাসজনিতসর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। এ থেকে আপনার শিশুকে দূরে রাখতে রাতে ঘুমানোরসময় শিশুর গায়ে হালকা সুতি কাপড় বা কাঁথা দিয়ে রাখুন। তবে শিশু ঘেমে যাচ্ছেকি না সেদিকেও খেয়াল রাখুন। শিশু ঘেমে গেলে ঘাম মুছে গায়ের কাপড় আলগা করেদিন। আর আপনার শিশু যদি সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়েই যায় তবে দুশ্চিন্তা নাকরে শিশুকে বিশ্রামে রাখুন। ঘরোয়া দাওয়াই হিসেবে তুলসীপাতা কিংবা আদার রস, আর মধু মিশিয়ে শিশুকে খেতে দিন। এতে আপনার সোনামণি খুব সহজেই সর্দি-কাশিথেকে মুক্তি পাবে। যেহেতু শিশুর এসব রোগবালাই ছোঁয়াচে, তাইপরিষ্কাররুমাল ব্যবহার করতে দিন।
গলা ব্যথা হলে হালকা কুসুম গরম পানিতে লবণমিশিয়ে দু-এক দিন বার বার গড়গড়া করিয়ে দিন।ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলেগায়ের কাপড় খুলে দিন। পানিতে কাপড় ভিজিয়ে গা মুছে দিন। ফ্যান ছেড়ে ঘরেরদরজা-জানালা খুলে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিন।
বৃষ্টি হলেঠাণ্ডা লাগবে মনে করে শিশুকে গোসল করানো বন্ধ করানো যাবে না। বরংনিয়মিতগোসল করিয়ে দেয়া উচিত। তাহলেআর ঠাণ্ডা বসে যাবে না। তবে প্রতিদিন একই সময়গোসল করানো উচিত। আর গোসল শেষে হালকা করে পাউডার লাগিয়ে দিন। এতেবেশআরাম বোধ করবে। বৃষ্টিতে ভিজলে তাড়াতাড়ি ভালো করে শরীর ও চুল মুছে কাপড়পাল্টে দিন।
এ সময় বাসা-বাড়িকে জীবাণুমুক্ত রাখতে ঘরের মেঝে, দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, বিছানা সবকিছু নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। শিশুরব্যবহার্য তৈজসপত্র, কাঁথা ও ন্যাপকিন সাবান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্যাভলন বাডেটল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। গরম পানি দিয়েও মাঝে মধ্যে ধুতে পারেন।এ সময়শিশুর খাবারের প্রতিও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। যথেষ্ট পুষ্টির জন্য মাছ, ডিমসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি শাকসবজি খেতে দিন। তবে একই খাবার বার বার নাদিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেয়া উচিত। এতে শিশুর খাবারে অনীহা আসবে না। এ সময়শিশুকে পেয়ারা, আমড়া, কলা, আমলকীসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল খেতে দিতে হবে। এগুলোশিশুর ভিটামিন সি ঘাটতি পূরণ করবে। তাই খেয়াল করে প্রতিদিন অন্তত একটি ফলশিশুর খাবার তালিকায় রাখুন। ফল বার বার খেতে না চাইলে জুস করে দিতে পারেন।তবে তা বাড়িতেই তৈরি করে দিন। বাজারের কেনা কেমিক্যালের জুস থেকে শিশুকেযতটা সম্ভব দূরে রাখুন। তবে যাই খাওয়ানো হোক না কেন তার পাশাপাশি অবশ্যইপর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে।
সূত্র - যুগান্তর

